
শেষ আপডেট: 3 May 2019 08:23
ক্ষয় ক্ষতির আঁচ ঝাড়গ্রামেও। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে গোপীবল্লভপুর ব্লকের চুনঘাঁটি গ্রামে উড়ে গিয়েছে প্রায় ২৫টি বাড়ির চাল। ভেঙে পড়েছে একাধিক গাছ। বাসিন্দাদের উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয় জেলা জুড়ে। আজ সকাল হতেই বাড়ে বৃষ্টির তোড়। একে খারাপ আবহাওয়া, তাই ফণীর আতঙ্ক, সকাল থেকেই ঝিমিয়ে রয়েছে ঝাড়গ্রাম শহর। দোকানপাট খোলেনি। পথে যাঁদের না বের হলেই নয়, একমাত্র দেখা মিলেছে তাদেরই।
শুক্রবার সকালেই পুরীতে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এরপর উপকূল বরাবর এগিয়ে ঝাড়গ্রাম-পশ্চিম মেদিনীপুর দিয়ে এ রাজ্যে ঢোকার কথা ফণীর। তারপর হাওড়া হুগলি হয়ে নদিয়া দিয়ে বাংলাদেশের দিকে চলে যাবে বলেই পূর্বাভাস আবহবিদদের।
পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ইতিমধ্যেই বাড়ছে ঝড়ের প্রকোপ। খড়্গপুর, দাঁতন, মোহনপুর, চন্দ্রকোনা, মেদিনীপুর শহর সহ একাধিক এলাকায় রাত থেকেই শুরু বৃষ্টি। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। বেলা যত বাড়ছে ততই বাড়ছে ঝড়ের দাপট। আজ ঘাটালে নির্বাচনী সভা করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সভায় যোগ দিতে গতকালই খড়্গপুরে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে তাঁর।
২০০৯ সালে ২৫ মে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আয়লায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। মৃত্যু হয়েছিল বহু মানুষের। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার আগাম সতর্কতা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে।
বসিরহাটের মহকুমা শাসক সুপ্রিয় দাস জানান অসামরিক প্রতি রক্ষা বাহিনীকে তৈরি রাখা হয়েছে। মেডিকেল টিমও তৈরি। এই সব অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয় ফ্লাড সেন্টারগুলিকে তৈরি রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ মজুত রাখা হয়েছে। সন্দেশখালি ধামাখালি ফেরিঘাটে রবার বোট সহ উদ্ধার কাজের বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের ৩৪ জনের একটি দল গ্রামে গ্রামে মাইকে প্রচার চালাচ্ছে।
কাকদ্বীপের মহকুমাশাসক সৌভিক চ্যাটার্জি জানান, নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বহু মানুষকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন নদীতে। বাঁধ ভেঙে যাতে বাড়ি ঘর না ভাসে তারজন্য সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।