দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া : মিডডে মিল নিয়ে জেলায় জেলায় যখন এত কাণ্ড, তখন শুধুমাত্র রান্নাঘর নেই এই অজুহাতে বন্ধ পড়ুয়াদের দুপুরের খাবার। পুরুলিয়া শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেনি রোড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
রাস্তার ধারে ছোট্ট একফালি জমিতে স্কুল। কেবল ক্লাসঘর সেখানে। এতটুকু জায়গা নেই, যেখানে রান্নার ব্যবস্থা করা যায়। আশেপাশের কোনও জায়গাতেও নাকি রান্নার সুবিধা মেলেনি। তাই স্কুলে আসা খুদেদের জন্য মিডডে মিলের ব্যবস্থা করা যায়নি। এখন এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৪১। আগে আরও ছিল। মিডডে মিল না মেলাতেই স্কুল ছুট অনেকেই। এমনটাই দাবি এলাকার বাসিন্দাদের। তবে লাগোয়া এলাকায় সামিয়ানা টাঙিয়ে মিডডে মিল রান্নার কথা হলে বাসিন্দারাই বাধা দেন বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুলের প্রধানশিক্ষক পার্থসারথী চৌধুরী বলেন, “স্কুলের নিজস্ব রান্নাঘর নেই। তাই মিডডে মিল রান্না করা যায় না। দীর্ঘদিন ধরেই এমন পরিস্থিতি চলছে। বিষয়টি একাধিকবার জেলা শিক্ষা দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু সুরাহা হয়নি। কিছুদিন আগে পুরসভার পক্ষ থেকে একটা জায়গা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে জায়গাও ঘিরতে হবে। পরিষ্কার করতে হবে। তবেই সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মিডডে মিল রান্না করার প্রশ্ন।”
পুরুলিয়া সদর দুই নম্বর চক্রের স্কুল পরিদর্শক জয়দীপ রাউতও ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “কোনও ভাবেই রান্নার জায়গার ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। তাই এমন সমস্যা। পুরসভার থেকে পাওয়া জায়গায় যাতে দ্রুত মিডডে মিলের ব্যবস্থা হয়, তারজন্য চেষ্টা করা হবে।”
কোনও প্রান্তিক গ্রাম নয়, খোদ পুরুলিয়া শহরে এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে জেলা প্রশাসন। কবে সমস্যা মিটবে, কবে দুপুরের দু’মুঠো খাবার পাবে পড়ুয়ারা সেই দিকেই এখন তাকিয়ে স্কুলের পড়ুয়া ও অভিভাবকরা।