দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ২০ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর সময় উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর থেকে মোট ৮৩ জন গ্রেফতার হয়। অভিযোগ, তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছিল। মঙ্গলবার ধৃতদের মধ্যে ৪৮ জনকে জামিন দেয় বিজনৌরের এক আদালত। বিনা প্রমাণে এতজনকে গ্রেফতার করার জন্য কড়া সমালোচনা করা হয় পুলিশের।
বিচারক বলেন, “পুলিশের এফআইআরে বলা আছে, উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। কিন্তু কোনও অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। গুলি চালানোর প্রমাণ নেই।” ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ সম্পর্কে বিচারক বলেন, “পুলিশের এফআইআরে বলা হয়েছে, উত্তেজিত জনতা বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে। পুলিশের গাড়ি ও কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে। কিন্তু ভাঙচুর সম্পর্কে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে ঘটনার অন্তত ২০ দিন পর। সরকারি কৌঁসুলি বলছেন, ১৩ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। কিন্তু মেডিক্যাল রিপোর্ট বলছে, তাঁদের আঘাত খুবই সামান্য।”
রাজধানী দিল্লি থেকে ১৬১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিজনৌরে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। দু’জনের মৃত্যু হয়। পুলিশ স্বীকার করে, একজনের মৃত্যু হয়েছে তাদেরই গুলিতে। উত্তরপ্রদেশে ওই এক জায়গাতেই গুলি চালানোর কথা স্বীকার করে পুলিশ।
বিজনৌরের নাগিনা নামে এক ছোট্ট শহরেই সবচেয়ে বেশি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। এছাড়া উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য জেলা থেকেও হিংসাত্মক ঘটনার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে। তাদের দাবি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঠেকাতে গিয়ে অন্তত ৬০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। যদিও পুলিশের ‘বাড়াবাড়ি’ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
কয়েকজন অভিযুক্তের হয়ে কোর্টে সওয়াল করেছিলেন বিজনৌরের আইনজীবী আহমেদ জাকাওয়াত। তিনি বলেন, “পুলিশের দাবি, অনেকগুলি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। কিন্তু তেমন একটি গাড়ির নাম্বার প্লেটও তারা দেখাতে পারেনি। পুলিশ মিথ্যা অভিযোগ করছে।”