দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলার কোথাও বড় জমায়েত করা যাবে না। সুতরাং শুক্রবার কৃষক সংগঠনগুলিকে ওই জেলায় মহাপঞ্চায়েত করার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নকে এমনই জানিয়ে দিয়েছে শামলি জেলা প্রশাসন। কিন্তু ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন জানিয়েছে, বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে তারা শুক্রবার মহাপঞ্চায়েত করবেই।
মহাপঞ্চায়েতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আছে রাষ্ট্রীয় লোকদল। তারা আগামী ৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের নানা এলাকায় মহাপঞ্চায়েত বসাতে চায়। সেখান থেকে দিল্লিতে আন্দোলনরত কৃষকদের প্রতি সংহতি জানানো হবে। শামলি জেলা প্রশাসন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে পড়ছে গুড ফ্রাইডে, মহাশিবরাত্রি এবং হোলি। তাছাড়া তখন অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলবে। তাই ওই সময় বড় জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
গত সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশের বাগপতের বারাউতে মহাপঞ্চায়েতের আয়োজন করা হয়। সেখানে হাজার হাজার কৃষক যোগ দেন। এরপর মুজফফরনগরে বৃহৎ জমায়েত করেন বিকেইউ-এর নেতা নরেশ টিকায়েত। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী দিনে ওই ধরনের সভার অনুমতি নাও দিতে পারে উত্তরপ্রদেশ সরকার।
এদিনই সকালে ১০ টি রাজনৈতিক দলের ১৫ জন সাংসদ গিয়েছিলেন গাজিপুরে। দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে অবস্থিত ওই অঞ্চলে দু'মাসের বেশি সময় ধরে কৃষকরা অবস্থান করছেন। সাংসদরা কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই পুলিশ তাঁদের আটকায়। পরে তাঁরা বলেন, অন্নদাতাদের প্রতি সরকার যে আচরণ করছে, তা চমকে ওঠার মতো।
সাংসদরা একটি বাসে চড়ে গাজিপুরে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সদ্য এনডিএ ছেড়ে আসা শিরোমণি অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কাউর বাদল, এনসিপি-র সুপ্রিয়া সুলে, ডিএমকে-র কানিমোঝি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়। পরে হরসিমরত কাউর বাদল টুইট করে বলেন, "গাজিপুর বর্ডারের অবস্থা নিজের চোখে দেখে এলাম। অন্নদাতাদের প্রতি সরকার যে আচরণ করছে, তা রীতিমতো শকিং। তাঁদের চারপাশে দুর্গের মতো পাঁচিল দেওয়া হয়েছে। কংক্রিটের ব্যারিকেডের সঙ্গে রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। কৃষকরা যেখানে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেডেরও ঢোকার রাস্তা নেই।"
কৃষকরা যে জায়গাগুলিতে অবস্থান করছেন, সেখানে পুলিশ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। জল ও বিদ্যুতের সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় কৃষকরা চাক্কা জ্যাম-এর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সোমবার পেশ হওয়া বাজেট নিয়েও কৃষকরা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাজেটে কৃষির উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।