দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রমাণ মেলেনি লাভ জেহাদের। তাই মামলা করেও তুলে নিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। গতমাসের গ্রেফতারির ঘটনায় মামলা পৌঁছেছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট পর্যন্ত। সেখানেই হাইকোর্টকে উমনসুরপুর পুলিশ স্টেশনের অফিসাররা জানিয়ে দিলেন, অভিযোগ অনুযায়ী যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত দুই যুবক নাদিম ও সলমনের বিরুদ্ধে।
হরিদ্বারের বাসিন্দা, ২৮ বছরের যুবক নাদিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, ধর্মান্তরিত করার জন্য এক গৃহবূধকে বিয়ের চেষ্টা করেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের মুজাফ্ফনগরের বাসিন্দা অক্ষয় কুমার নাদিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন থানায়। দাবি করেন, তাঁরই স্ত্রীকে জোর করে বিয়ে করতে চাইছেন নাদিম। সলমন নামের আরও এক যুবক নাদিমকে সাহায্য করছেন বলেও অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এও জানান, সম্পর্কে বাধা দিলে তাঁকে নাকি হুমকিও দিচ্ছেন ওই দুই যুবক।
ঘটনার তদন্ত করে পুলিশ। তবে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা-- কোনও অভিযোগেরই কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার এলাহাবাদ হাই কোর্টে উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি হলফনামা জমা করে বলা হয়, নাদিম ও সলমনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই বিষয়ে তদন্ত করার সময় তিনি কোনও মহিলাকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছেন বলে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারী তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে নাদিম যে সম্পর্ক তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তার তথ্যও মেলেনি। তাই পুলিশ নাদিমের নামে যে অভিযোগ করেছিল তা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি ফের এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
নাদিমের আইনজীবী জানান, অক্ষয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে লাভ জেহাদ আইনে মামলা করে বসে পুলিশ, কিন্তু এখন নিজেরাই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। ক্লিনচিট পেয়েছেন সলমনও। নাদিমের কথায়, "অক্ষয়ের কাছ থেকে টাকা পেতাম আমি। সে জন্যই আমায় ফাঁসানোর জন্য মিথ্যে গল্প ফাঁদে সে। ওর স্ত্রীকে বিয়ে করা বা ধর্ম বদলানোর কোনও রকম পরিকল্পনা আমার কখনওই ছিল না। আদালতে সত্যিটা প্রমাণ হয়ে গেছে।"
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারিণীর স্ত্রীও বয়ান দিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কোনও চেষ্টা করেননি নাদিম। ধর্মান্তরিত হওয়ারও কোনও প্রশ্নই নেই। তাঁর স্বামী অক্ষয় মিথ্যে সন্দেহের জেরে এ অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।