'কমিউনিটি ট্রান্সমিশন' এখনও শুরু করেনি করোনাভাইরাস, নিশ্চিত করল আইসিএমআর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা দেশে বাড়ছে রোজ। আজ, বৃহস্পতিবারই এই সংখ্যা ছুঁয়েছে ১৬৯। মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। এরই মধ্যে আপাতত খানিকটা স্বস্তির খবর দিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। তারা জানাল, করোনাভাইরাসের
শেষ আপডেট: 19 March 2020 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা দেশে বাড়ছে রোজ। আজ, বৃহস্পতিবারই এই সংখ্যা ছুঁয়েছে ১৬৯। মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। এরই মধ্যে আপাতত খানিকটা স্বস্তির খবর দিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। তারা জানাল, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জেরে কোভিড ১৯ অসুখ এখনও 'কমিউনিটি ট্রান্সমিশন'-এর পর্যায়ে যায়নি। অর্থাৎ এখনও স্টেজ টু-তেই আছে এই অসুখের সংক্রমণ।
কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কী? করোনা-আক্রান্ত কোনও দেশে গেলে বা করোনাভাইরাসে অসুস্থ কোনও রোগীর সংস্পর্শে এলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু তা না করা সত্ত্বেও যদি কোনও ব্যক্তির করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তখন বলা হয় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে। এর ফলে, দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এবং স্বাভাবিক ভাবেই, ভয় আরও বেড়ে যায়।
সম্প্রতি, বিদেশ থেকে আসেননি অথচ জ্বর-সর্দি-কাশি রয়েছে এমন ৮২৬ রোগীর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করেছে আইসিএমআর। জানা গিয়েছে সব ক'টা রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে। অর্থাৎ তাঁদের মধ্যে কেউ কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত নন।
এই ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ শুরু হয়েছে কিনা, সেই নিয়ে জল্পনার উৎস ছিলেন চেন্নাইয়ের এক ব্যক্তি। বুধবার তাঁর কোভিড ১৯ ধরা পড়ে। চিকিৎসায় তিনি সুস্থও হতে শুরু করেন, কিন্তু চিন্তা বাড়ায়, ওই ব্যক্তির বিদেশে যাওয়ার কোনও রেকর্ড নেই। মেলামেশার তালিকা খুঁজে করোনা-আক্রান্ত কাউকে পাওয়াও যায়নি প্রাথমিক ভাবে। পরে জানা যায়, কিছু দিন আগেই দিল্লিতে কোভিড ১৯ আক্রান্ত বিদেশ-ফেরত এক রোগীর সংস্পর্শে তিনি এসেছিলেন। ফলে তিনি যে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের শিকার নন, ওই আক্রান্ত ব্যক্তির থেকেই সংক্রামিত হয়েছেন, নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা।
আইসিএমআরের এক কর্তা ডক্টর রমন আর গঙ্গাখেদকর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’-এর প্রমাণ পাওয়া গেলে ধরে নেওয়া যেত, যে ভারত কোভিড ১৯-এর তৃতীয় ধাপের দিকে এগোচ্ছে। তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ধরনও বদলে ফেলতে হতো।
আশঙ্কা ঘনাচ্ছিল কয়েকদিন ধরেই। বিশেষজ্ঞদের একাংশের তরফে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, ভারতে পর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। মনে করা হচ্ছিল, অন্য সব দেশে এই ভাইরাসটি যেভাবে আচরণ করেছে, ভারত তার ব্যতিক্রম হবে না সম্ভবত। তাই অচিরেই স্টেজ থ্রি-তে পৌঁছে যাবে কোভিড ১৯। তার উপর ১৩৪ কোটি জনসংখ্যার দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে বিশাল সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন, তা করা হয়নি বলেই মনে করা হয়েছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার আইসিএমআর-এর ঘোষণা স্বস্তি দিল অনেকটাই। তবে
যেভাবে করোনা সংক্রমণ এড়াতে কোনও বড় জমায়েত বা ভিড় এড়িয়ে চলার কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনোর কথাও বলা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত স্কুল, কলেজ, সিনেমা হল, জিম, রেস্তরাঁ। ট্রেন বাতিল হয়েছে বহু। আজ, রাত আটটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। করোনাভাইরাস রুখতে আরও কড়া কোনও পদক্ষেপের কথা তিনি ঘোষণা করতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই।