দ্য ওয়াল ব্যুরো : নির্ভয়ার খুনিদের মৃত্যুদণ্ড যাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে না যায়, সেজন্য দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তার শুনানি হল বুধবার। বিচারপতি বলেন, খুনিরা আরও এক সপ্তাহ আইনি পথে ফাঁসি আটকানোর চেষ্টা করতে পারে। তারপরে তাদের মৃত্যুদণ্ডের দিন নিয়ে শুনানি শুরু হবে।
চার খুনিকে একসঙ্গে ফাঁসি দেওয়া হবে না আলাদাভাবে, এই নিয়ে বিতর্ক চলছে অনেকদিন ধরে। নিম্ন আদালতের বিচারক খুনিদের আলাদাভাবে ফাঁসি দেওয়ার প্রস্তাব মেনে নেননি। এদিকে এক খুনির প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে বাকিদের ফাঁসিও আটকে আছে।
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সুরেশ কাইত বলেন, “দিল্লির প্রিজন রুলে বলা হয়নি যে, একজনের প্রাণভিক্ষার আবেদনে যদি সিদ্ধান্ত না হয়ে থাকে তাহলে অন্যান্য অপরাধীকে ফাঁসি দেওয়া যেতে পারে।” এর পরে তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে চার খুনির শাস্তি একইসঙ্গে স্থির হয়েছিল। তাই তাদের মৃত্যুদণ্ড একসঙ্গেই কার্যকর করতে হবে।”
নির্ভয়ার মা বলেছেন, “হাইকোর্ট পুরো প্রক্রিয়ার একটা সময়সীমা স্থির করেছে। সেজন্য আমি খুশি। অপরাধীরা নানাভাবে দেরি করিয়ে দিচ্ছে। এখন এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে।”
২০১২ সালে ২৩ বছরের এক প্যারামেডিক্যাল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন করে চার অপরাধী। তাদের নাম বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত, মুকেশ সিং ও অক্ষয় সিং। ১ ফেব্রুয়ারি তাদের ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। বিনয় শর্মা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করে। তা নাকচ হয়ে গেলে আবেদন করে অক্ষয় সিং। কেন্দ্রীয় সরকারের ধারণা, আসামীরা পরিকল্পনা করেই একে একে আবেদন করছে। ফাঁসি পিছিয়ে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “অপরাধীরা জাতির ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। এভাবে দেরি হতে থাকলে মানুষ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।”