নির্ভয়ার ধর্ষকই নাকি ধর্ষিত হয়েছে জেলে, সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ মুকেশের আইনজীবীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলের মধ্যে নাকি চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে মুকেশ সিংকে। ধর্ষিত হতে হয়েছে নাকি তাকেও। শীর্ষ আদালতে তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন মুকেশের আইনজীবী অঞ্জনা প্রকাশ। রাষ্ট্রপতির ক
শেষ আপডেট: 27 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলের মধ্যে নাকি চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে মুকেশ সিংকে। ধর্ষিত হতে হয়েছে নাকি তাকেও। শীর্ষ আদালতে তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন মুকেশের আইনজীবী অঞ্জনা প্রকাশ। রাষ্ট্রপতির কাছে নির্ভয়ার ধর্ষক মুকেশের প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ হয়ে গিয়েছিল গত ১৭ জানুয়ারি। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ফের পিটিশন দাখিল করেছিল মুকেশ। আজ তারই শুনানি ছিল শীর্ষ আদালতে তিন বিচারপতির বেঞ্চে। শুনানি চলাকালীনই এমন দাবি করে বসেন মুকেশের আইনজীবী।
‘‘ধর্ষণের সাজা হিসেবেই যদি ফাঁসির রায় দেওয়া হয় আমার মক্কেলকে, তাহলে তাকেও তো ধর্ষিত হতে হয়েছে,’’ দাবি মুকেশের আইনজীবীর। তাঁর অভিযোগ, ২০১৩ সালের মার্চে রাম সিং জেলের ভিতর আত্মহত্য়া করেননি। তাঁকে খুন করা হয়েছিল। এরপরেও লাগাতার শারীরিক নির্যাতন চলে চার দোষীর উপরেই। তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনজীবীর অভিযোগ, মুকেশকে দিনের পর দিন অমানবিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি অক্ষয় ঠাকুরের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক তৈরি করতে তাকে বাধ্যও করে জেল কর্তৃপক্ষ।
ফাঁসির আসামি মুকেশ সিংয়ের বয়ানে আইনজীবী বলেন, ‘‘টানা পাঁচ বছর আমি ঘুমোতে পারিনি। খালি মনে হত আমাকে মেরে ফেলা হবে। আমার উপর যৌন নিপীড়নও চলে।’’ বিচারপতি আর ভানুমতী-সহ তিন বিচারপতির বেঞ্চে এমন অভিযোগ আনার পরেই শোরগোল পড়ে যায় আদালত কক্ষে। মুকেশের আইনজীবীর এমন অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা। তিনি বলেন, জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও শারীরিক অত্যাচারের এমন ভুয়ো অভিযোগ ক্ষমার অযোগ্য। তিনি বলেন, ‘‘’যদি ধরেও নেওয়া হয় জেলের ভিতর খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে আসামি মুকেশের সঙ্গে, তাহলেও বলতে হয় সে এমন কোনও মহান কাজ করেনি যাতে তাকে জেলের ভিতরে রাজকীয় মর্যাদা দিতে হবে। গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ভয়ঙ্কর অভিযোগ আছে আসামিদের বিরুদ্ধে। এমন জঘন্য অপরাধ যদি আমি করতাম আর আমার সঙ্গে জেলে এমনটা হত, তাহলে আমি ক্ষমা করে দিতাম।’’
ইতিমধ্যেই তিন দণ্ডিতের আইনজীবী এ পি সিংহ দিল্লির পাটিয়ালা কোর্টে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলরা সুপ্রিম কোর্টে কিউরেটিভ পিটিশন (রায় সংশোধনীর আর্জি) এবং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে আগ্রহী। কিন্তু তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে বিলম্ব করছেন। ফলে তিন দণ্ডিত আপিল করতে পারছে না।
এই অভিযোগ উড়িয়ে জেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ফাঁসির দিন ঠিক হওয়ার পর থেকেই মুখে কুলুপ এঁটেছে আসামিরা। তারা নাকি পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে দেখাও করতে চায়নি। ঠিকমতো খাবারও খাচ্ছে না তারা। এমনকি শেষ ইচ্ছার প্রশ্নেও তারা নীরব। ফাঁসির পরে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত তাদের জিনিসপত্র কার হাতে তুলে দেওয়া হবে সেই নিয়েও কিছু বলতে চায়নি তারা। জেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যাপারে কিছু আইনী কাগজপত্রে সই করতে হয়। কিন্তু আসামিরা নাকি সেটাও করতে রাজি হচ্ছে না। উল্টে কীভাবে বার বার প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়ে ফাঁসির দিন পিছিয়ে দেওয়া যায়, সেই আলোচনাতেই মত্ত তারা।
এদিকে ফাঁসির প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে তিহাড়ে। কিছুদিন আগেই বস্তা ঝুলিয়ে হয়ে গেছে ডামি মহড়া। আসামিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে নিয়মিত। তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখছেন জেলের ডাক্তাররা। জেল সূত্রে খবর, ফাঁসির দিন যত এগিয়ে আসছে উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে আসামিদের। কখনও শেষবার প্রাণভিক্ষার আর্জি জানানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে তারা, আবার কখনও দোষ চাপাচ্ছে জেল কর্তৃপক্ষের ঘাড়েই।