দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও করোনা অতিমারী দূর হয়নি বিশ্ব থেকে। অনেক দেশেই শুরু হয়েছে টিকাকরণের কাজ। সংক্রমণ কমলেও এখনও তা দূর করতে অনেক সময় লাগবে বলেই জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যেই ফের একবার বিশ্ববাসীকে সতর্ক করলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু প্রধান টেড্রস আধানম। তাঁর বক্তব্য, এটিই শেষ অতিমারী নয়। এরপরে আরও অনেক অতিমারী আসবে। কিন্তু পরবর্তী অতিমারীকে রোখার কোনও চেষ্টাই আমরা করছি না।
রবিবার ইন্টারন্যাশনাল ডে অফ এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস উপলক্ষ্যে একটি ভিডিও বার্তায় এই কথা জানিয়েছেন হু প্রধান। তিনি জানান, অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার সময় হয়েছে আমাদের। টেড্রস বলেন, “অনেক দিন ধরে বিশ্ব আতঙ্ক ও দায়িত্বহীনতার চক্রের মধ্যে ঘুরছে। কোনও অতিমারী ছড়ালে আমরা টাকা খরচ করি। কিন্তু যখন সেটা চলে যায় তখন আমরা তার কথা ভুলে যাই। পরবর্তী অতিমারীকে আটকানোর কোনও চেষ্টাই আমরা করি না। এটা খুব ভয়ঙ্কর স্বল্পকালীন মানসিকতা। এই সমস্যা আমি বুঝতে পারি না।”
এখানেই থেমে থাকেননি টেড্রস আধানম। তিনি বলেন, “ইতিহাস আমাদের বলছে এটাই শেষ অতিমারী নয়। অতিমারী জীবনেরই একটা অঙ্গ। কারণ অতিমারীর মাধ্যমেই মানুষ, প্রাণী ও পৃথিবীর মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তা প্রকাশ পায়। তাই যতদিন না মানুষ ও প্রাণীদের মধ্যে একটা বন্ধন তৈরি হচ্ছে এবং জলবায়ুগত সমস্যা আমরা মেটানোর চেষ্টা না করছি, ততদিন মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে না।”
এতদিন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বে ৮ কোটি মানুষ। এই ভাইরাসের কবলে পড়ে সাড়ে ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যুও হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে বলেই মনে করে টেড্রস আধানম। তিনি বলেন, “গত ১২ মাসে পৃথিবী সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। রোগের অনেক ঊর্ধ্বে উঠে এই অতিমারী সমাজ ও অর্থনীতির শত্রুতে পরিণত হয়েছে। তাই এই অতিমারী আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে তা আমাদের নেওয়া উচিত। আগে থেকেই আমাদের তৈরি থাকা উচিত। যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের সংকটের মুখে আমাদের পড়তে না হয়।”
হু প্রধান মনে করেন, সব দেশের উচিত একে অন্যকে সাহায্য করে আগে থেকেই একটা প্রস্তুতি সেরে রাখতে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যা হলে তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। এই কাজে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব রকমের সাহায্য করতে প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন তিনি।