
শেষ আপডেট: 23 September 2019 19:30
প্রশ্ন হল, সোমবারের এই ট্রাম্পের সঙ্গে নয়াদিল্লি কি রবিবারের ট্রাম্পকে মেলাতে পারছে? গত সন্ধ্যায় যিনি বলেছেন, গোটা বিশ্বকে মুসলিম মৌলবাদ ও সন্ত্রাস থেকে মুক্ত করতে হবে, তিনি রাতারাতি যেন ভোল পাল্টে ফেলেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় যাঁর পাশে বসে চওড়া হাসি হেসেছেন, তাঁর দেশ ধারাবাহিক ভাবে যে সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে চলেছে তা মার্কিন কূটনীতিক ও গোয়েন্দাদের মুখস্থ। তা হলে? রাজনীতি? ভোট? আগামী বছর মার্কিন মুলুকে ভোট, তাই সেখানকার মুসলিমদেরও বার্তা দিতে চাইছেন ট্রাম্প।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, এর আগেও কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্ততার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু নয়াদিল্লি এক কথায় সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। সাউথ ব্লক স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কারও নাক গলানোর অধিকার নেই।
কিন্তু তার পরেও ট্রাম্প যে ভাবে এ দিন ফের প্রস্তাব দিলেন তাতে মোদী প্রশাসনের একটু অস্বস্তি যে হচ্ছে সংশয় নেই। কারণ, এই মানুষটাকে গতকাল হিউস্টনে অনেক আদর আপ্যায়ণ করা হয়েছে নয়াদিল্লির তরফে। এক ধাপ এগিয়ে আবার মোদী বলেছেন, আব কি বার ট্রাম্প সরকার!
তবে ভারতীয় কূটনীতিকরা বলছেন, ট্রাম্প যে এরকম পিচ্ছিল তা তাঁরা জানেন। কিন্তু কূটনৈতিক ভাবে তাঁরা একটা স্তর পর্যন্ত হোয়াইট হাউজের উপর চাপ তৈরি করতে পারেন। তার বেশি নয়। শুধু তা নয়, সোমবার ভারতীয় সেনা প্রধান বিপিন রাওয়াত সাংবাদিক বৈঠক করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশ জঙ্গিদের কার্যকলাপের কথা জানিয়েছেন, তারও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল। ট্রাম্প-ইমরান বৈঠকের আগে নয়াদিল্লি এই বার্তা দিতে চাইছিল যে সন্ত্রাসবাদে ইমরান প্রশাসন এখনও মদত দিচ্ছে। কিন্তু তার পরেও ট্রাম্প এ দিন যা বলেছেন, তা ঘরোয়া রাজনীতিতে মোদীকে চাপে ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন সরকারের নেতারা।
ওদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ইসলামাবাদে যেন লাড্ডু বিতরণ চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান টুইট করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ভারত-পাক রাজি থাকলে তিনি মধ্যস্ততায় রাজি। কিন্তু ভারত কোনও আলোচনাতেই আসতে চাইছে না। এই অবস্থায় আমি মনে করি আরও বড় সংকট শুরু হয়ে গেল। আমি সত্যিই মনে করি, কাশ্মীরে এখন যা চলছে তার থেকেও বড় সংকট আসতে চলেছে”।