দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার পরেই পাকিস্তানের তরফ থেকে সীমান্তে ফের সন্ত্রাস তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে, এমনটাই দাবি ভারতীয় সেনার। সেনা সূত্রে খবর, আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে সেনা নিয়ে ভারত সীমান্তে সেনার সংখ্যা বাড়াতে পারে পাকিস্তান। এমনকী মঙ্গলবার থেকেই হয়তো ফের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গুলিবর্ষণ হতে পারে সীমান্তে।
সেনার এক অধিকর্তা জানিয়েছেন, "ভারতের এই সিদ্ধান্তের পরেই নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তান। পরবর্তী পরিকল্পনা তৈরি করতে ৩-৪ দিন সময় লাগতে পারে পাকিস্তানের। আমরা সবকিছুর উপর কড়া নজর রাখছি। পাকিস্তানের তরফে কিছু করার চেষ্টা হলে আমরাও জবাব দেব।" তিনি আরও বলেন, "আফগান সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে তা কাশ্মীরে নিয়ে আসতে পারে পাকিস্তান। এই পদ্ধতিতে আমেরিকার উপরেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে পাকিস্তান। কারণ এই মুহূর্তে তারা আগফানদের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে।"
সেনাসূত্রে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই হয়তো সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালাতে পারে পাক সেনা। ভারতীয় সেনাকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পাকিস্তানের তরফে গুলি চালানো হলে তার জবাব দেবে ভারতীয় সেনা।
সোমবার ভারতের এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, ভারতের রাষ্ট্রপতির ওই নির্দেশ যাতে কার্যকর না হয়, সেজন্য কূটনৈতিক পথে চেষ্টা করা হবে। তিনি একটি বিবৃতিতে বলেন, আজ কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকার যা ঘোষণা করেছে, আমরা তার নিন্দা করছি। সারা বিশ্বে কাশ্মীরকে বিতর্কিত অঞ্চল বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ভারত সরকারের কোনও একতরফা পদক্ষেপ তার বিতর্কিত চরিত্র বদলে ফেলতে পারে না। পাকিস্তান এই বেআইনি কাজ ঠেকাতে সব রকম চেষ্টা করবে।
কুরেশি আরও বলেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের দায়বদ্ধতা আছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ যাতে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পান, সেজন্য আমরা তাঁদের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন দিয়ে যেতে দায়বদ্ধ।
পাকিস্তানে বিরোধী মুসলিম লিগ (নওয়াজ)-এর সভাপতি শাহবাজ শরিফ বলেন, ভারতের এই পদক্ষেপ মেনে নেওয়া যায় না। তারা কার্যত রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।