দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরে আরও বাড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা। পাশাপাশি চরম পর্যায়ে পরিবর্তন হবে আবহাওয়ার। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে দ্য ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO)।
রাষ্ট্রপুঞ্জের রেকর্ড অনুসারে ২০১৯ সাল ছিল এই দশকের সবচেয়ে সবচেয়ে উষ্ণ বছর। তবে ২০২০-তে তাপমাত্রা সার্বিকভাবে আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই মত আবহবিদদের। আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন ডেটা পর্যালোচনা করেই একথা জানিয়েছে WMO। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ইতিমধ্যেই লাগামছড়া পর্যায়ে রয়েছে। এর প্রভাবে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত হারে গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের জলস্তরের উচ্চতা।
WMO-জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তরফে পেশ করা তথ্যে দেখা গিয়েছে ২০১৬ সালের পর ২০১৯ সাল হল দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফেও বলা হয়েছে বিগত দশকে মাত্রাছাড়া উষ্ণতা বৃদ্ধির যে নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে , আগামী দিনে সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। WMO-র চিফ পেটেরি টালাস-এর কথায়, "২০১৯ সালে ব্যাপকভাবে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়েছে। পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বেড়েছে। ২০২০ সালেও সেই প্রভাব পড়তে বাধ্য।
ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে তার নিদর্শন। গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দাবানলে জ্বলছে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ। দাবানলের গ্রাসে পুড়ে খাক হয়েছে একরের পর একর জমি। কয়েক লক্ষ বন্যপ্রাণের মৃত্যু হয়েছে। মারা গিয়েছে ২৮ জন। ঘরছড়া হয়েছে অসংখ্য মানুষ। সব হারিয়ে সহায়সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন তাঁরা। বিশ্ব উষ্ণায়নই এই দাবানলের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন আবহবিদরা।
২০০০ ঘরবাড়ি ছাড়াও ১০ মিলিয়ন হেক্টর জমি পুড়ে গিয়েছে এই দাবানলে। সমীক্ষা বলছে, যে পরিমাণ অংশে ধ্বংসলীলা চলেছে তার আয়তন দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা পর্তুগালের তুলনায় বেশ কিছুটা বেশি। WMO-র চিফ টালাসের কথায়, "এটা দুর্ভাগ্যের বিষয় যে হয়তো ২০২০তে আমাদের এর থেকেও মারাত্মক ধ্বংসলীলা দেখতে হবে। আগামী দশকে আবহাওয়া উপর গ্রিন হাউসের প্রভাব আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।"
রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে জানানো হয়েছে ১৯৮০-র পর থেকে প্রায় সব বছরই উষ্ণতা বৃদ্ধিতে টেক্কা দিয়েছে আগের বছরকে। ২০২০ সালেও এই ট্রেন্ড বজায় থাকবে বলে মত আবহবিদদের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল, এই দশ বছরে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সব বছরেই আগের বছরের থেকে খানিকটা করে বেড়েছে তাপমাত্রা। ২০২০ সালে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে WMO। অতিরিক্ত হারে গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি, মাত্রাতিরিক্ত ভাবে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বৃদ্ধিই এই বিশ্ব উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন আবহবিদরা।