দ্য ওয়াল ব্যুরো: মদের নেশা সর্বনাশা। মদের কবলে পড়ে শুধুমাত্র ২০১৬ সালে ৩০ লক্ষ মানুষ মারা গেছেন। এমনটাই পরিসংখ্যান দেখা গিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( WHO ) এর রিপোর্টে। এই ৩০ লক্ষের মধ্যে ৭৫ শতাংশের উপর পুরুষ বলেই দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে ২০০৫ সাল থেকে ২০১৬ সালে মদ খাওয়ার পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। ২০০৫ সালে জন প্রতি মদ খাওয়ার পরিমাণ ছিল ২.৫ লিটার। ২০১০ সালে সেটা বেড়ে হয় জন প্রতি ৪.৩ লিটার। ২০১৬ সালে সেটা বেড়ে হয়েছে জন প্রতি ৫.৭ লিটার। এই পরিমাণ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। ভারতকে মদ্যপানের তালিকায় উদ্বিগ্ন দেশ হিসেবেই তুলে ধরেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
২০১৬ সালে যে ৩০ লক্ষ মানুষ মদ খেয়ে মারা গেছেন তার মধ্যে ২৮ শতাংশ মদের নেশায় কোনও না কোনও দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, ২১ শতাংশ পেটে সমস্যার কারণে মারা গেছেন, ১৯ শতাংশ হার্ট সমস্যার কারণে মারা গেছেন ও বাকিরা ছোঁয়াচে রোগ, ক্যান্সার বা মানসিক রোগের কারণে মারা গেছেন বলে জানানো হয়েছে এই রিপোর্টে।
গোটা বিশ্ব জুড়ে প্রায় ২৩৭ মিলিয়ন পুরুষ ও ৪৬ মিলিয়ন মহিলা মদ খান বলে জানানো হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে। ইউরোপে মদ খাওয়ার পরিমাণ সবথেকে বেশি। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে পদ খাওয়ার পরিমাণ জন প্রতি ১০ শতাংশ করে কমছে ইউরোপে।
একদিনে একজন মানুষ ৩৩ গ্রাম পিওর অ্যালকোহল পান করতে পারেন, সেটাও জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই পরিমাণ ১৫০ মিলিলিটার করে ২ গ্লাস ওয়াইন, ৭৫০ মিলিলিটারের এক বোতল বিয়ার বা ৪০ মিলিলিটার করে দু পেগ মদের সমান। বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন স্কুলে সার্ভে করে দেখা গেছে বর্তমানে ১৫ বছর বয়স বা তার আগে থেকেই ছেলে-মেয়েরা মদ খাওয়া শিখছে।
এই অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য খুব কম উপায় আছে বলে মত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। এই সংস্থার ম্যানেজমেন্ট কো-অর্ডিনেটর ড. ভ্লাদিমির পোজনিয়াক জানিয়েছেন, মদের উপর ট্যাক্সের পরিমাণ বাড়াতে হবে। মদের বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধ করতে হবে। মদের দোকানের সংখ্যা কমাতে হবে। একমাত্র তবেই যদি মদ খাওয়ার পরিমাণ কমানো যায়। নইলে এই নেশা যে মানব সভ্যতার কতটা ক্ষতি করতে পারে তা ভেবেই চিন্তিত তাঁরা।