রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় ভারতের, সুপার ওভারে ফয়সালা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাই লড়লেন কেন উইলিয়ামসন। অন্যদিকে যখন একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট হচ্ছেন, অন্যদিকে তখন নিজের জাত চেনালেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক। তাঁর দুরন্ত ৯৫ রানের দৌলতে হ্যামিলটনে জেতার সামনে চলে এসেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু শেষ ওভারে দু
শেষ আপডেট: 29 January 2020 10:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাই লড়লেন কেন উইলিয়ামসন। অন্যদিকে যখন একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট হচ্ছেন, অন্যদিকে তখন নিজের জাত চেনালেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক। তাঁর দুরন্ত ৯৫ রানের দৌলতে হ্যামিলটনে জেতার সামনে চলে এসেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু শেষ ওভারে দুরন্ত বল করলেন শামি। শেষ বলে রস টেলরকে আউট করে ম্যাচ টাই করে দেন শামি। সুপার ওভারে যায় ম্যাচ। সুপার ওভারে শেষ দুই বলে দুই ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন রোহিত। সেইসঙ্গে সিরিজ জিতল ভারত।
১৮০ রান তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে ৯ রান দরকার ছিল নিউজিল্যান্ডের। শেষ ওভারের প্রথম বলেই শামিকে ছক্কা মারেন রস টেলর। মনে হচ্ছিল দু'বল আগেই ম্যাচ জিতে যাবে ভারত। কিন্তু তখনই জ্বলে উঠলেন শামি। প্রথমে ৯৫ রানের মাথায় উইলিয়ামসনকে আউট করেন শামি। তারপর দুটো ডট বল করেন। শেষ বলে দরকার ছিল ১ রান। টেলরকে ইয়র্কারে বোল্ড করে দেন শামি। সুপার ওভারে যায় ম্যাচ।
সুপার ওভারেও ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেন উইলিয়ামসন। তাঁর দুটি চার ও একটি ছক্কার দৌলতে ১৭ রান করে নিউজিল্যান্ড। ভারতের হয়ে ব্যাট করতে নামেন লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মা। প্রথম চার বলের মধ্যে একটা চার মারেন রাহুল। শেষ দুই বলে ১০ রান দরকার ছিল। দুটো বলেই ছক্কা মারেন রোহিত। ম্যাচ জিতে যায় ভারত। সেইসঙ্গে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে যায় ভারত।
এদিন টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন রোহিত। অন্যদিকে নিজের সাবলীল খেলা খেলছিলেন রাহুল। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ২৭ রান ওঠে। তিনটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন রোহিত। বেনেটকে ছক্কা মেরে ২৩ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
ভারতকে প্রথম ধাক্কা দেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। লোকেশ রাহুলকে ২৭ রানের মাথায় আউট করেন তিনি। তারপরেই ভুল করে টিম ম্যানেজমেন্ট। তিন নম্বরে ব্যাট করতে পাঠান তরুণ শিবম দুবেকে। শুরুতে ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না দুবের। কয়েকটা বল ডট যাওয়ায় চাপ বাড়ে। বড় শট খেলতে গিয়ে ৬৫ রানের মাথায় বেনেটের বলেই আউট হন রোহিত। ওই ওভারেই দুবেকেও আউট করেন বেনেট।

তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পার্টনারশিপ গড়েন বিরাট কোহলি ও শ্রেয়স আইয়ার। সিঙ্গল, ডবলসে রান তুলছিলেন তাঁরা। মাঝেমধ্যে বাউন্ডারি আসছিল। সেই সময় স্টাম্প মাইকে ধরা পড়ে, কোহলি আইয়ারকে বলছেন, এই মাঠে ১৬৫ অনেকরান।
শেষদিকে অবশ্য কয়েকটা বড় শট খেলেন দুই ব্যাটসম্যান। ১৭ রানের মাথায় স্যান্টনারের বলে স্টাম্প হন আইয়ার। ৩৮ করে বেনেটের বলেই আউট হন কোহলি। শেষ দুই ওভারে কিছুটা রান করেন মনীশ পাণ্ডে ও রবীন্দ্র জাদেজা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রানে শেষ হয়ে বিরাটদের ইনিংস। পাণ্ডে ১৪ ও জাদেজা ১০ করে অপরাজিত থাকেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালই করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার গাপটিল ও মুনরো। পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে ৩১ রানের মাথায় গাপটিলকে আউট করেন শার্দুল ঠাকুর। মুনরোকেও ১৪ রানের মাথায় আউট করেন জাদেজা। তারপরে খেলা ধরেন উইলিয়ামসন। উল্টোদিকে ডি গ্র্যান্ডহোম ব্যাটে বল লাগাতে না পারলেও একাই দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক।
বুমরাহ অনেক রান দিলেন। জাদেজা ও শামি ভারতকে ম্যাচে রাখেন। রস টেলরকে নিয়ে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন উইলিয়ামসন। শেষ ওভারের প্রথম বলে ছক্কা খেয়েও নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগালেন শামি। ৯৫ রানের মাথায় উইলিয়ামসন ফিরতেই ম্যাচের হাল বদলে যায়। শেষ পাঁচ বলে মাত্র ২ রান দিলেন তিনি। শেষ বলে টেলরকে আউট করেন শামি। সুপার ওভারে যায় ভারত। সেই সুপার ওভার জিতে ইতিহাস তৈরি করল ভারত। প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে নিউজিল্যান্ডে টি ২০ সিরিজ জিতলেন বিরাটরা।