আকাশ ঘোষ
ছেলেটার দেহ পড়ে রয়েছে মর্গে। আদৌ সেটা ছেলের দেহ কি না তা নিয়েও মামলা চলছে হাইকোর্টে। ডিএনএ টেস্ট করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। হিন্দু শাস্ত্র মতে, যতক্ষণ না দেহ সৎকার হচ্ছে ততক্ষণ অশৌচ যায় না। গত চার মাস ধরে অশৌচই পালন করছিল কাঁকুড়গাছির সরকার পরিবার। নিরামিষ খাচ্ছিলেন সকলে। কিন্তু আজ তো ছেলেটার জন্মদিন। আজ মাছ ঢুকল বাড়িতে। চার মাস পর। বন্ধুবান্ধবরাই সব বন্দোবস্ত করেছেন। তার মধ্যেই সিবিআই টিম এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে।
ভোটের ফল ঘোষণার রাতে কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিত সরকার খুন হয়েছিলেন। তার তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। এদিন সিবিআইয়ের সঙ্গেই ফরেনসিক দল যায় অভিজিতের বাড়িতে। প্রথমে ঘটনাস্থলের ফটো তোলেন ফরেনসিক দলের সদস্যরা। এরপর তাঁরা অভিজিতের বাড়ি থেকে চলে যান। ১১ জনের সিবিআই টিম জিজ্ঞাসাবাদ করে নিহত বিজেপি কর্মীর মা ও দাদাকে। দাদাকে নিয়েই বাড়ির সামনে সেদিনকার ঘটনার পুণর্নির্মাণ করে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি।
এসবের মধ্যেই জন্মদিনের আয়োজন চলছে। অভিজিৎ পমফ্রেট আর চিংড়ি খেতে ভালবাসতেন। তাই রান্না হচ্ছে বাড়িতে। চার মাস পর মাছ ঢুকল সরকার বাড়িতে। চোখ মুছতে মুছতেই রাঁধছেন মা, বৌদি। তার মধ্যে আবার সিবিআই গোয়েন্দাদের প্রশ্নের জবাবও দিতে হল অভিজেতের মাকে।
বাড়ির সামনেটাও অভিজিতের ছবি দিয়ে সাজিয়েছেন তাঁর বন্ধুরা। সঙ্গে বিজেপির পতাকা। পার্টিজান অভিজিৎ মনেপ্রাণে ভালবাসতেন পদ্মপতাকাকে। যে সব ছবি দিয়ে জন্মদিন উপলক্ষে অভিজিতের বাড়ির সামনেটা সাজানো হয়েছে তার কোনওটায় দিলীপ ঘোষ বা স্বপন দাশগুপ্তর সঙ্গে তাঁর ছবি। আবার কোনওটায় হয়তো আদরের পোষ্যর সঙ্গে নিহত তরুণ বিজেপি কর্মী।
আইনি কারণে এখনও অভিজিতের দেহ সৎকার হয়নি। হিমঘরেই রয়েছে তাঁর দেহ। কারণ একাধিকবার ময়নাতদন্ত হলেও অভিজিতের পরিবার দাবি করে, যে দেহ তাঁদের ছেলের বলে বলা হচ্ছে তা তাঁর নয়। সন্দেহ, দেহ লোপাট করে দিয়ে অন্য বেওয়ারিস লাশকে অভিজিতের বলে চালাচ্ছে পুলিশ। আদালতে এই অভিযোগ করার পর হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, ওই দেহের ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরেই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে দেহটি অভিজিতের কি না।
লাশকাটা ঘরে দেহ, এদিকে গলায় দলা পাকানো যন্ত্রণা নিয়েই সৎকার না হওয়া মৃত ছেলের জন্মদিন পালন। সঙ্গে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ।