দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রদেশে একের পর এক নাটক হয়েছে। কংগ্রেস ছেড়েছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। শিগগির তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন। তাঁর ২২ অনুগামী বিধায়কও কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তারপরেও সরকার ধরে রাখার ব্যাপারে আত্মবিশাসী মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। বললেন, জ্যোতিরাদিত্য যতই চেষ্টা করুন, তাঁর সরকার পড়বে না।
মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমের সামনে কমলনাথ বলেন, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেব। আমাদের সরকার নিজের পাঁচ বছর পূর্ণ করবে।” একই সুর শোনা গিয়েছে মধ্যপ্রদেশের আর এক বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের গলাতেও। তিনি বলেন, “আমরা আস্থা ভোটে যাব। চারজন নির্দল, সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির দুই বিধায়ক আমাদের সঙ্গেই আছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি।”
জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে যে ২২ বিধায়ক দল ছেড়েছেন তাঁদের মধ্যেও অনেকে ফের দলে ফিরে আসবেন বলেই মনে করেন দিগ্বিজয় সিং। তিনি বলেন, “যেসব বিধায়কদের বিজেপি বেঙ্গালুরুতে নিয়ে গিয়েছে, তাঁরা সবাই নিজেদের আসন হারাতে চান না। তাঁদের অনেকের পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।”
কংগ্রেস ছাড়ার আগে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে আটকানোর অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি বলেন, “ওঁকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার কথা হয়েছিল। উনি রাজি হননি। ওঁনাকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়ার কথা বললেও উনি রাজি হননি। তাঁকে রাজ্যসভায় যাওয়া থেকেও কেউ আটকাতো না। আমাদের তো সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল।”
হোলির সকালে জ্যোতিরাদিত্য প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। পরে টুইটারে ইস্তফাপত্র পোস্ট করেন। তাতে তারিখ দেওয়া আছে ৯ মার্চ। চিঠিতে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, “আমি এমন পথে যাত্রা করেছি, তা এক বছর আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল।” পরে তিনি লেখেন, “শুরু থেকে আমার উদ্দেশ্য একটাই। তা হল জনগণকে সেবা করে। আমি এই দলে থেকে জনগণ ও দেশের সেবা করতে পারছিলাম না।”
জ্যোতিরাদিত্য এই চিঠি পোস্ট করার কয়েক মিনিটের মধ্যে কংগ্রেস তাঁকে ‘বহিষ্কার’ করে। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেন, ‘দলবিরোধী’ কাজের অভিযোগে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একদা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জ্যোতিরাদিত্য বেশ কিছুদিন ধরেই দলের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট ছিলেন। ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পিছনে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। তাঁর অনুগামীদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন বিধায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়নি। গত বছর অগস্টে তিনি প্রকাশ্যে সংবিধানের ৩৭০ ধারা লোপ করা সমর্থন করেন।
মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় আসনের সংখ্যা ২৩০। তার মধ্যে কমলনাথ সরকারের পক্ষে ছিলেন ১২০ জন বিধায়ক। গরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ছিল ১১৬ জন। কমলনাথের বিধায়কের সংখ্যা তার চেয়ে সামান্য বেশি ছিল। কংগ্রেসের নিজের বিধায়ক ছিলেন ১১৪ জন। বিএসপি ও সমাজবাদী পার্টির একজন এবং চার নির্দল বিধায়ক তাদের সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু ২২ জন বিধায়ক দল গথেকে পদত্যাগ করায় সংকটে কমলনাথের সরকার। একথা নিশ্চিত যে কয়েক দিনের মধ্যেই বিজেপি অনাস্থা প্রস্তাব আনবে। এরপরেও কংগ্রেস সরকার টিকে থাকবে বলেই প্রত্যয়ী ঘোষণা করলেন কমলনাথ।