দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়া তাঁর নেশা। সেই নেশাতেই এবার উত্তরাখণ্ডের কৃষক গোপাল দত্ত উপরেতি নাম তুলে ফেললেন গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। তাঁর বাগানে অরগ্যানিক পদ্ধতিতে ফলানো ধনে গাছের উচ্চতা পৌঁছলো সাত ফুট এক ইঞ্চিতে।
উত্তরাখণ্ডের আলমোরা জেলার রানিক্ষেতে তাঁর চাষ। সেখানেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। হিমালয় রেঞ্জে যে ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতিতে চাষবাস হয় তার সঙ্গেই প্রযুক্তির ব্যবহার করেন গোপাল। আর তাতেই এই সাফল্য।
সংবাদমাধ্যমকে গিনেস রেকর্ডে জায়গা করে নেওয়া এই কৃষক জানিয়েছেন, "প্রতিবছর ধনে গাছের উচ্চতা হয় সাড়ে পাঁচ ফুটের আশপাশে। কিন্তু এবার সাত ফুট পেরোতেই সিদ্ধান্ত নিই গিনেস রেকর্ডের জন্য আবেদন করব।" তিনি আরও বলেন, গত এপ্রিল মাসে গিনেস রেকর্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। কয়েকদিন আগেই স্বীকৃতি দিয়েছে তারা।
এতদিন পর্যন্ত গিনেস রেকর্ডে সবচেয়ে লম্বা ধনে গাছের উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি। সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে গোপালের ফলানো ধনে গাছ। আলমোড়া জেলার কৃষি অধিকর্তাও সম্প্রতি গোপালকে ফোনে জানিয়েছেন, লকডাউন মিটলে তাঁকে কৃষি দফতরের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
চার একর জমিতে দু'হাজার আপেল গাছ রয়েছে এই কৃষকের। প্রযুক্তির সাহায্যেই আপেল ফলে সেখানে। গুণগত মান নিয়েও কোনও অভিযোগ নেই। নিজের জমিতে ফলান রসুনও। তবে ধনে চাষ শুরু করেছেন বছর তিনেক হল। আর তাতেই এই স্বীকৃতি।
আগে দিল্লিতে নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা ছিল এই কৃষকের। চাষি পরিবারে বেড়ে ওঠায় জমির প্রতি আত্মিক টান ছিলই। সংবাদমধ্যমে তিনি বলেছেন, "২০১১ সালে সিদ্ধান্ত নিই, অনেক ব্যবসাপাতি হল, এবার একটু চাষবাসে ফেরা যাক।"
৪৭ বছর বয়সী এই কৃষক প্রাথমিক ভাবে আপেল চাষ দিয়েই শুরু করেছিলেন। তিন বছরের মাথা থেকেই ফল মিলতে শুরু করে। আলমোড়া জেলার সবচেয়ে বড় ছটি ফ্রুটস ভেন্ডরের কাছে আপেল যায় গোপালের বাগান থেকেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু করেন রসুন চাষ। তাতেও সাফল্য আসে। এবার ধনে চাষে স্বীকৃতি দিল গিনেস বুক।