হটস্পট চিহ্নিত করতেই 'আরোগ্য সেতু' অ্যাপ, এবার চালু হচ্ছে জিও, ল্যান্ড ফোনেও
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের হদিশ রাখার জন্য আরোগ্য সেতু অ্যাপলিকেশন এনেছে কেন্দ্র। দেশবাসীকে জানানো হয়েছে, এই অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে। কিন্তু ইতিমধ্যেই এই অ্যাপ নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এই অবস্থায় ঠিক কারণে আরোগ্য সেতু অ্য
শেষ আপডেট: 11 May 2020 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের হদিশ রাখার জন্য আরোগ্য সেতু অ্যাপলিকেশন এনেছে কেন্দ্র। দেশবাসীকে জানানো হয়েছে, এই অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে। কিন্তু ইতিমধ্যেই এই অ্যাপ নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এই অবস্থায় ঠিক কারণে আরোগ্য সেতু অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এমপাওয়ারড গ্রুপ ৯-এর চেয়ারম্যান অজয় সাহনি এই বিষয় জানান। তিনি বলেন, "ভারতে কোভিড সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরেই এই সংক্রমণের গতিবিধির উপর নজর রাখার জন্য আরোগ্য সেতু অ্যাপ আনা হয়েছে। কেউ যদি এই অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করেন, তাহলে তাঁর শারীরিক খবর সরকারকে জানাতে পারবেন। এই সেলফ অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে আমরাও জানতে পারব কারও মধ্যে উপসর্গ রয়েছে কিনা। যদি উপসর্গ থাকে তাহলে তাঁর পরীক্ষা করে দেখা হবে।"
অজয় সাহনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত দেশে ৯.৮ কোটি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এই ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১৩ হাজারের কিছু কম মানুষের মধ্যে কোভিড ১৯ ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা হচ্ছে। কিন্তু এই অ্যাপের মাধ্যমে আরও প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে, যাঁরা এই অ্যাপ না থাকলে সেই ১৩ হাজার মানুষের সংস্পর্শে আসতে পারতেন। এটাই এই অ্যাপের সাফল্য বলে জানিয়েছে তিনি।
এদিন এমপাওয়ারড গ্রুপ ৯-এর চেয়ারম্যান আরও বলেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে কোনও জায়গা করোনা হটস্পট যাতে না হয়ে ওঠে তার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সংক্রমণ ছড়ালে কোনও জায়গা হটস্পট হয়ে উঠেছে কিনা সেই খবরও দেয় এই অ্যাপ। এখনও পর্যন্ত আরোগ্য সেতু অ্যাপের মাধ্যমে ভারতে ৬৯৭ টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অজয় সাহনি।
এতদিন শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনেই এই অ্যাপ ডাউনলোড করা যেত। কিন্তু এবার ল্যান্ডফোনেও এই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সাহনি। তিনি বলেন, আরোগ্য সেতু আইভিআরএস প্ল্যাটফর্ম নামে একটি নতুন পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ল্যান্ডফোন থেকে ১৯২১ ডায়াল করলে ওই ব্যক্তিকে ফোন করে তাঁর শারীরিক খবর নেওয়া হবে। এছাড়া জিও ফোনেও এই সুবিধা আগামীকাল থেকে চালু হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
আরোগ্য সেতু অ্যাপের সুরক্ষা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য থাকায় তার ভুল ব্যবহার হবে কিনা, সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এই বিষয়ে অজয় সাহনি বলেন, এই অ্যাপ এখনও পর্যন্ত তৈরি হওয়া অ্যাপের মধ্যে সবথেকে বেশি সুরক্ষিত। এই অ্যাপ ব্যবহারকারীদের নাম নয়, একটা ডিভাইস নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের চিহ্নিত করা হয়। ফলে কেউ কারও নাম জানতে পারেন না। শুধুমাত্র যেসব ব্যবহারকারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা সংক্রমণের আগের ১৫ দিন কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন সেই তথ্য নেওয়া হয়। সেটা অন্যদের সতর্ক করার জন্য। শুধুমাত্র আক্রান্তদের তথ্যই স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কাছে থাকে। বাকিদের তথ্য তাঁদের ফোনেই থাকে। সেই তথ্যও নির্দিষ্ট সময়ের পরে মুছে যায়। আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে ওঠার ৬০ দিন পরে নিজে থেকে সেই তথ্যও মুছে যায়। তাই এই অ্যাপ ব্যবহার করায় চিন্তার কিছু নেই।