দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ গয়না সংস্থা তনিষ্কের একটি বিজ্ঞাপন ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক যেন থামতেই চাইছে না। বিতর্ক ও বিরোধিতার মুখে পড়ে বিজ্ঞাপনটি তুলে নিয়েছে সংস্থা। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক হয়নি তা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা থেকে পরিষ্কার। গুজরাতে তনিষ্কের একটি স্টোরে এসে হুমকি দেখানো হয়েছে। এমনকি হামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। কিন্তু হামলার কথা মানতে চায়নি পুলিশ। হুমকির পরে ওই স্টোরের তরফে ক্ষমা প্রার্থনা করে একটা চিঠিও দেওয়া হয়েছে স্টোরের বাইরে।
গুজরাতের গান্ধীনগর থেকে ৩১০ কিলোমিটার দূরে কচ্ছের গান্ধীধামের স্টোরে ঘটেছে এই ঘটনা। ময়ূর পাতিল নামের এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “কিছু লোকে স্টোরে জানিয়েছিলেন এই বিজ্ঞাপনে অনেকের ভাবাবেগ আহত হয়েছে। তাছাড়া হুমকি দিয়ে কিছু ফোনও করা হয়। ওই এলাকায় পুলিশি টহল চলছে। কিন্তু কোনও বিক্ষোভ বা হামলার ঘটনা ঘটেনি।”
ওই পুলিশ আধিকারিক আরও বলেন, “গান্ধীধামের ওই স্টোরে দুই ব্যক্তি আসেন। তাঁরা ম্যানেজারের কাছে দাবি করেন গুজরাতি ভাষায় ক্ষমা চাইতে হবে। স্টোরের ম্যানেজার তাঁদের দাবি মেনে নেন। কিন্তু তারপরেও হুমকি ফোন পেয়েছেন তিনি। কিন্তু স্টোরে হামলার অভিযোগ মিথ্যে।”
ওই স্টোরের ম্যানেজার রাহুল মানুজা সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, “বিজ্ঞাপন খুব লজ্জাজনক ছিল। দু’জন এসে এই দাবি করেছিল। আমরা ক্ষমা চেয়েছি। দোকানে হামলা করা হয়নি। কিন্তু তারপরেও বেশ কিছু হুমকি ফোন আমি পেয়েছি। পুলিশ আমাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। আমাদের সব রকমের সাহায্য করা হচ্ছে।” স্টোরের বাইরে ক্ষমা চেয়ে চিঠিটি লাগানো হয়। কিন্তু তার কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা ম্যানেজারের তরফে জানানো হয়নি।
তনিষ্কের যে বিজ্ঞাপন নিয়ে এত বিতর্ক, ঠিক কী ছিল সেখানে?
ওই বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়, একজন হিন্দু যুবতীর সাধভক্ষণের অনুষ্ঠান চলছে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে তাঁর শাশুড়ির তরফে। শাশুড়ির পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি অন্য একটি ধর্মের। যে যুবতীর অনুষ্ঠান চলছে তিনি প্রশ্ন করেন, এই অনুষ্ঠান তো আপনাদের বাড়িতে হয় না। তার জবাবে শাশুড়ি বলেন, এই অনুষ্ঠান কি প্রত্যেক বাড়ির তাঁদের মেয়েকে খুশি রাখার জন্য করা উচিত নয়?
এই বিজ্ঞাপনের পরেই শুরু হয় বিতর্ক। অনেকেই অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া হয়েছে। কেউ আবার অভিযোগ করেন এর মাধ্যমে লাভ জিহাদের প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু শশী থারুর, চেতন ভগতের মতো অনেকেই দাবি করেছেন, এই বিজ্ঞাপন ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রকাশ করছে। তাই এতে খারাপ কিছু নেই। বরং এর বিরোধিতা করে ভারতের ঐতিহ্যকেই ছোট করা হচ্ছে।
তনিষ্ক টাটা গ্রুপের গয়না সংস্থা। তাই রতন টাটার বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ দেখান অনেকে। এমনকি এই ঘটনার পরে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারে পতন হয়েছে টাটা গোষ্ঠীর। তাই ওই বিজ্ঞাপনকে তুলে নিয়েছে তারা। তারপরেও বিতর্ক থামার নাম নেই।