দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাত্মা গান্ধীকে সম্পর্কে কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ অনন্ত কুমার হেগড়ের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সংসদে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী। মঙ্গলবার সংসদের অধিনেশনে বলতে উঠে বহরমপুরের সাংসদ বলেন, “যারা গান্ধীজির অপমান করছে তারা রাবণের সন্তান।”
অনন্ত হেগড়ের মন্তব্য নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দু’দিন আগে বেঙ্গালুরুর একটি জনসভায় এই বিজেপি সাংসদ বলেন, “তথাকথিত নেতাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের যে সব কথা বলা হয় তা আসলে ভুয়ো। মহাত্মা গান্ধীর স্বাধীনতা সংগ্রাম আসলে মহানাটক।”
এখানেই থামেননি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “ব্রিটিশদের সম্মতি নিয়েই তাঁরা আন্দোলন করেছিলেন। ইংরেজদের অনুমতি নিয়েই মঞ্চ বেঁধেছিলেন। ওটা সত্যি কোনও লড়াই ছিল না। ব্রিটিশের সঙ্গে আপোস করে আন্দোলনের নাটক হয়েছিল।” ওই সভাতে দীর্ঘ বক্তৃতার একটা বড় অংশে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে নিজের মতো ব্যাখ্যা করেন এই বিজেপি নেতা। ব্রিটিশরা কেন ভারত ছাড়ল তা নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন হেগড়ে। তাঁর কথায়, “ব্রিটিশরা মোটেও ভারত ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়নি। হতাশায় চলে গিয়েছিল।”
https://twitter.com/ANI/status/1224585212039847938
হেগড়ের মন্তব্য নিয়ে চাপে পড়ে যায় বিজেপিও। প্রকাশ্যে নিশঃর্ত ক্ষমা চাইতে বলে সাংসদকে। এদিন অধীরবাবু বলেন, “এরা একদিকে রামের পুজো করে আবার গান্ধীজিকে গালিগালাজ করে। আসলে রামের পূজারিদেরই অপমান করছে।” যদিও দল ক্ষমা চাইতে বলার ২৪ ঘণ্টা কাটতে চললেও সে পথে হাঁটেননি হেগড়ে। বরং দাবি করেছেন, তিনি বক্তৃতায় গান্ধীজির নামই নেননি। শুধু স্বাধীনতা আন্দোলনকে ব্যাখ্যা করছেন মাত্র। সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশেও তোপ দেগেছেন হেগড়ে। বলেছেন, একাংশের সংবাদমাধ্যম মিথ্যে খবর পরিবেশন করেছে। কিন্তু এই সাংসদই সোমবার সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি যা বলেছি সেটাই ভারতের আসল ইতিহাস। কংগ্রেস নিজেদের মহান প্রমাণ করতে এই সব বানানো ইতিহাস পড়িয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু দেশের মানুষের সত্যটা জানা উচিত।”
দল ক্ষমা চাইতে বলতেই ভোল বদলে ফেললেন হেগড়ে!