দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজধানীর হিংসায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দাঙ্গা বাঁধানোর উদ্দেশ্যেই দিল্লি পুলিশের পায়ে বেড়ি পরিয়ে রেখেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। হিংসায় যেমন প্রাণ গিয়েছে সাধারণ মানুষের, তেমন মৃত্যু হয়েছে পুলিশ কনস্টেবল থেকে গোয়েন্দা অফিসারের। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর দু’দিন আগেই ছাড়া পেয়েছেন দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনোজ কুমার। শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্বীকার করে নেন পুলিশের অসহায় অবস্থার কথা।
তিনি বলেন, “উন্মত্ত জনতার সামনে পুলিশ ছিল নগন্য। ওরা যখন ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার জন মিলে ঘর-বাড়ি জ্বালাচ্ছে, দোকানে লুঠ করছে, তখন আমরা সংখ্যায় সর্বসাকুল্যে ২০০।” তিনি আরও বলেন, “ওই জমায়েতে বহু মহিলাও ছিল। একেকটি জায়গায় মহিলারাই সামনের সারিতে চলে আসছিল। পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটাতে ফাটাতে পিছু হঠতে থাকে। মহিলাদের জন্যই সেদিন গুলি চালানো যায়নি।”
পরিস্থিতি যখন প্রায় হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে, তখন মঙ্গলবার রাতে দিল্লির চারটি থানা এলাকায় দেখলেই গুলির নির্দেশ জারি করে পুলিশ। তার আগে সোমবার গুরুতর জখম হন মনোজ কুমার। তাঁর কথায়, “ওই মুহূর্তে আমার কাছে প্রাথমিক লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়া অন্য এক পুলিশকর্তাকে জনতার মধ্যে থেকে উদ্ধার করা। তার মধ্যেই প্রাণ চলে গিয়েছে কনস্টেবল রতন লালের। পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”
তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ একসময়ে নির্মীয়মাণ একটি ব্রিজের সামনে থেকে পাথরবৃষ্টি শুরু হল। তখন পুলিশও তেমন সংখ্যায় নেই। ফলে কিছুটা পিছু হঠতে বাধ্য হতে হয়।” এই পুলিশকর্তার কথায়, “সীমানা এলাকাগুলি সিল করার নির্দেশ আমাদের ছিল না। তবে কড়া তল্লাশি চলছিল। কিন্তু তার মধ্যেও এলাকাগুলি দিয়ে বহিরাগতরা ঢুকে পড়ে।”
গত শনিবার থেকে কার্যত ধ্বংসলীলা চলেছে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে। যে সব ছবি সামনে এসেছে তা শিউরে ওঠার মতো। আজ শনিবার পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত। শুরু হয়েছে গাড়ি চলাচল। নতুন করে হিংসার কোনও খবর মেলেনি এদিন। পর্যবেক্ষকদের মতে, পুলিশেরই যদি এমন অসহায় অবস্থা হয় তাহলে রাজধানীতে যা হয়েছে সেই ক্ষত শুকোতে এখনও অনেকটা সময় লাগবে। সময় লাগবে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কাটতেও।