দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সকালেই ছড়িয়ে পড়েছিল খুশির খবর। জানা গিয়েছিল ইসলামাবাদ থেকে সড়কপথে লাহোরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের ভারতীয় হাই কমিশনের অ্যাটাশে জে ডি কুরিয়েন। প্রাথমিক ভাবে শোনা গিয়েছিল, দুপুর দু'টো নাগাদ ওয়াঘা সীমান্তে এসে পৌঁছবেন তিনি। কিন্তু বেলা যত গড়াচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে অভিনন্দনের দেশে ফিরতে সন্ধে হয়ে যাবে। বেলা দু'টোর পর শোনা গিয়েছিল বিকেল ৪টে নাগাদ ওয়াঘা সীমান্তে আসবেন পাইলট। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, উইং কম্যান্ডারের দেশে ফিরতে রাত ৮টাও হতে পারে।
ইসলামাবাদ থেকে লাহোরের দূরত্ব প্রায় ৩৭৫ কিলোমিটার। যা আসতে সড়কপথে সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। এরপর লাহোর থেকে ওয়াঘা আসতে সময় লাগে আরও আধঘণ্টা। তারপর দু'দেশের তরফে বিভিন্ন প্রোটোকল পালন হবে। ফলে সন্ধে ৬টার আগে সম্ভবত দেশে ফিরতে পারবেন না অভিনন্দন। শুক্রবার দুপুরে বিএসএফ-এর তরফেও জানানো হয়েছে এ দিন সীমান্তে 'বিটিং রিট্রিট' বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
প্রসঙ্গত, প্রতিদিন সূর্যাস্তের ঘণ্টা দুয়েক আগেই ওয়াঘা সীমান্তে এই বিটিং রিট্রিট হয়। শুক্রবারও এই প্যারেড দেখতে জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। সঙ্গে আশা ছিল এক ঝলক অভিনন্দনকে দেখার। তবে বিএসএফ সূত্রে খবর, সকাল থেকে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ অভিনন্দনকে অভ্যর্থনা জানাতে ওয়াঘা সীমান্তে এসেছেন, সম্ভবত সময়ের অভাবে তাঁরা কম্যান্ডারকে অভিবাদন জানাতে পারবেন না। হয়তো অভিনন্দনের এক ঝলক দেখাও পাবেন না উপস্থিত জনতা।
বৃহস্পতিবার বিকেলেই পাক সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেছিলেন শুক্রবার ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে। ইমরান জানিয়েছিলেন, দু'দেশের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। জানা গিয়েছিল, ওয়াঘা সীমান্ত দিয়েই ভারতে ফিরবেন অভিনন্দন। স্পেশ্যাল কনভয়ে ওয়াঘা থেকে অমৃতসর এয়ারবেসে নিয়ে যাওয়া হবে কম্যান্ডারকে। তারপর বিমানে অমৃতসর থেকে দিল্লিতে আনা হবে তাঁকে।
সূত্রের খবর, অভিনন্দনকে ভারতে ফেরানোর ব্যাপারে ভারত যা যা চেয়েছিল, তা মেনে নেয়নি পাকিস্তান। সূত্রের খবর, ভারতের তরফে অভিনন্দনকে আকাশপথে দেশে ফেরানোর দাবি জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল বিশেষ বিমানে যেন অভিনন্দনকে ভারতে ফেরানো হয়। বিশেষ করে ওয়াঘা সীমান্ত এড়ানোর কথাও নাকি পাকিস্তানকে বলেছিল ভারত। তবে এর কোনওটিই মেনে নেয়নি পাকিস্তান। আকাশপথের পরিবর্তে সড়কপথেই ইসলামাবাদ থেকে লাহোরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন অভিনন্দন। আর ওয়াঘা সীমান্ত দিয়েই দেশে ফিরছেন তিনি।
এর মধ্যে আর একটি খবর এসেছে। পাক সেনার হাতে আটক ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার যাতে ভারতে ফিরতে না পারেন সে জন্য পাক আদালতে আবেদন জানিয়েছেন পাকিস্তানের এক সমাজকর্মী। তবে পিটিআই সূত্রে খবর, ওই সমাজকর্মীর আবেদন পাক আদালতে খারিজ হয়ে গিয়েছে।