দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রামীণ এলাকায় যেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নেই, সেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ালে প্রয়োজনে রেল কোচকে আইসোলেশন ওয়ার্ড বানিয়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে রেল মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গোটা দেশে আরও দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কা এমনিতেই রয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সতর্ক করে রেখেছে সরকারকে। আর সেই কারণেই গতকাল সব রাজ্যের মুখ্য সচিবদের চিঠি দিয়ে ক্যাবিনেট সচিব বলেছেন, আরও কিছু হাসপাতালকে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য রেডি রাখতে।
কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল, গোটা দেশেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এখনও সুদৃঢ় নয়। তা ছাড়া হাসপাতাল থাকলেও সেখানে আইসিইউ-র সংখ্যা কম। আইসোলেশন ওয়ার্ড বানানোর পরিকাঠামো অপ্রতুল।
জানা গিয়েছে, এ ব্যাপারে কয়েক সপ্তাহ আগেই একপ্রস্থ আলোচনা হয়েছিল। মঙ্গলবার সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। যেহেতু প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ রয়েছে। তাই প্রয়োজন মতো সেখানে কোচ নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
শুধু রেলকে আইসোলেশন ওয়ার্ড বানানোর ভাবনাতেই থেমে নেই কেন্দ্রে মোদী সরকার। বরং এ ধরনের অভিনব আরও অনেক ভাবনা নিয়েও বিবেচনা করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কর্তাদের মতে, সরকার চেষ্টা করছে সংক্রমণ যাতে আর না ছড়ায় তা সুনিশ্চিত করতে। গোটা দেশে লক ডাউন বলবৎ করে সামাজিক মেলামেশা সেই কারণেই কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এত বড় দেশ। এতো বিপুল জনসংখ্যা। সত্যিই যদি এই সংক্রমণ এ দেশেও মহামারীর আকার নেয়, তখন বর্তমান স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দিয়ে সামলানো দুস্কর হবে। সেই পরিস্থিতি না হলেই মঙ্গল। কিন্তু তেমন সংকটের আশঙ্কায় আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখাও অপরিহার্য।
জানা গিয়েছে, কোচিতে স্থিত একটি সংস্থা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কে সবিস্তার একটি প্ল্যান দিয়েছে। দেশে এখন ১২,৬১৭টি দূরপাল্লার ট্রেন রয়েছে। যেগুলিতে ২৩ থেকে ৩০টি কোচ রয়েছে। ওই সংস্থার হিসাবে প্রতিটি ট্রেনকে এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট মোবাইল হাসপাতালে রূপান্তরিত করে ফেলা সম্ভব। দেশে সাড়ে সাত হাজার প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে কাউকে আইসোলেশনে রাখতে হলে সরাসরি ওই ট্রেন-হাসপাতালেই অ্যাডমিট করা যেতে পারে। তা ছাড়া বড় কথা হল, ট্রেনে প্যান্ট্রি কারও রয়েছে। তাই খাবার সরবরাহ করতেও অসুবিধা হবে না।