দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন একই পরিবারের তিনজন। রাজধানী শহরের অন্যতম সম্ভ্রান্ত এলাকা ‘ডিফেন্স কলোনি’-তে থাকেন এই পরিবার। এই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ্য সদস্যের উপরেই থাবা বসিয়েছিল কোভিড ১৯। জানা গিয়েছে, সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে বছর ৮০-র ওই বৃদ্ধের। তাঁর ৭০ বছরের স্ত্রী এবং ছেলেও আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে।
আক্রান্ত হওয়ার পরেই এই পরিবার অভিযোগ তুলেছিলেন সংক্রমণ ছড়িয়েছে তাঁদের কলোনির নিরাপত্তারক্ষীর থেকে। কারণে নিজামুদ্দিনে তবলিঘি জামাতের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন ওই নিরাপত্তারক্ষী। অভিযুক্ত হওয়ার পর প্রাথমিক ভাবে এই নিরাপত্তারক্ষী পলাতক ছিলেন। তবে পরে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। আক্রান্ত পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে রুজু হয়েছে মামলাও। আপাতত কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তিনি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করছে পুলিশ।
ওই পরিবারের অভিযোগ ছিল, করোনা নিয়ে হাজার সতর্কতার মধ্যেও নিজের নিজামুদ্দিনে যাওয়ার ঘটনা বেমালুম চেপে গিয়েছিলেন ওই নিরাপত্তারক্ষী। কিছু জানতে পারেননি ডিফেন্স কলোনির বাসিন্দারা। ফলে অনেকের বাড়ির কাজেই সাহায্যের জন্য অবাধে যাতায়াত করেছেন ওই নিরাপত্তারক্ষী। বিশেষ করে এই আক্রান্ত পরিবারের ঘরের নানা কাজে সাহায্য করতেন তিনি। এমনকি দোকান থেকে জিনিসপত্র এনে রান্নাঘরে পৌঁছেও দিতেন।
যদিও এখনও এই নিরাপত্তারক্ষীর ফাইনাল রিপোর্ট আসেনি। তবে আক্রান্ত পরিবারের অভিযোগ তাঁর থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুর পর আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা। আতঙ্কে আছে ডিফেন্স কলোনির বাকি বাসিন্দারাও। এই নিরাপত্তারক্ষী এবং আক্রান্ত পরিবারের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন তাঁদের সকলকেই খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই কিছু লোককে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।
অন্যদিকে জানা গিয়েছে, ক’দিন আগেই বিদেশ থেকে ফিরেছিলেন আক্রান্ত দম্পতির নাতি। কিন্তু দেশে ফিরে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন তিনি। নিয়েছিলেন সবরকম সতর্কতা। এমনকি কোভিড-১৯ টেস্ট করিয়ে তাঁর রিপোর্টও আসে নেগেটিভ। ফলে পরিবারের অনুমান ওই নিরাপত্তারক্ষীর থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে তাঁদের মধ্যে। ডিফেন্স কলোনির বাকি বাসিন্দাদেরঅ সতর্ক থাকতে বলেছে পুলিশ। নিরপত্তারক্ষীদের বাড়িতে ঢুকিয়ে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করানোর থেকে আপাতত তাঁদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে পুলিশের তরফে।
এছাড়াও ওই কলোনির সব বাড়িতেই একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে বাড়িতে নানারকম সাহায্যের জন্য যাঁরা কাজকর্ম করে থাকেন, যেমন- গার্ড, ড্রাইভার, রান্নার লোক, পরিচারক বা পরিচারিকা কিংবা মালি—-সকলের দিকেই যেন বাড়ির লোকেরা একটু কড়া নজর রাখেন। এছাড়াও সংক্রমণ রোখার জন্য পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বনের কথাও বলেছে পুলিশ।