দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড ছবি দেখেই অনুপ্রেরণা পেয়েছিল দিল্লির বছর বাইশের তরুণ শুভম কুমার পাল। তবে ইন্সপিরেশন একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল। তাই সটান ফোন করে বসেন এনআইএ-তে। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির দফতরে ফোন লাগিয়ে রীতিমতো হুমকিও দেন শুভম। চাপা গলায় হিন্দিতে বলেন, "আমার কথা মন দিয়ে শুনুন। মুম্বইতে কাল কিছু বড় হবে। কিছু করার থাকলে করে নিন।"
উড়ো ফোনে আসা হুমকি উড়িয়ে দেননি এনআইএ-র শীর্ষ কর্তারা। শুরু হয় ছানবিন। একটু খোঁজ করতেই বেরিয়ে যায় ফোন করা তরুণের নাম-ধাম-পরিচয়। এরপর মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে অভিযুক্তকে ধরেও ফেলে পুলিশ। কিন্তু কেন এমন কাণ্ড ঘটালো ওই তরুণ তা জানতেই শুরু হয়েছে তদন্ত। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ওই পড়ুয়াকে। পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও রুজু হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অতিরিক্ত হিন্দি সিনেমা দেখার ফলেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন শুভম। অ্যাকশন-থ্রিলার ছবি দেখে নিজেও সটান ফোন করে বসেন এনআইএ-র দফতরে। আদতে দিল্লির বাসিন্দা শুভম এসেছিলেন চলতি সপ্তাহেই এসেছিলেন মুম্বইতে। এখানে আসার পর থাকার জন্য একটি লজ-ও ভাড়া নেন তিনি। তারপরেই গত ২৯ অগস্ট শুভম হুমকি দিয়ে ফোন করেন এনআইএ-র দফতরে। শুক্রবার গোরেগাঁও (ইস্ট) আইটি পার্কের কাছ থেকে শুভমকে পাকড়াও করেছেন মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ কর্তারা। হেফাজতে নেওয়া হয়েছে তাঁর মোবাইল ফোন। আর তাতেই চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারী আধিকারিকদের।
শুভমের ফোন খতিয়ে দেখার পর পুলিশ জানতে পেরেছে এনআইএ-র দফতরে ফোন করার আগে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি ওয়েবসাইট ঘেঁটেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের বেশ কিছু নম্বরে ফোনও করেছিলেন ওই যুবক। এমনকী আন্ডারওয়ার্ল্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং জঙ্গি গোষ্ঠীর ব্যাপারে সার্চও করেছিল ইন্টারনেটে। তাই শুভমের ফোনকে নিছক উড়ো হুমকি ফোন বলে অবহেলা করছে না পুলিশ। বরং এই ঘটনার পিছনের সঠিক কারণ জানতে আঁটঘাট বেঁধেই শুরু হয়েছে তদন্ত।