দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন। মঙ্গলবার তাঁর করোনা পরীক্ষা হয়। রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারের মধ্যে। এদিন সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কেজরিওয়াল টুইট করে লেখেন, "আপনি নিজের যত্ন না নিয়ে দিনরাত মানুষের জন্য করেছেনন। এবার নিজের যত্ন নিন। দ্রুত সেরে উঠুন।"
হাসপাতালে ভর্তির কথা নিজেই টুইট করে জানিয়েছিলেন সত্যেন্দ্র। তিনি লেখেন, প্রবল জ্বর এসেছিল তাঁর। সেইসঙ্গে অক্সিজেন নিতেও সমস্যা হচ্ছিল। তারপরই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।
নয়াদিল্লির রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বেলার দিক থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জ্বর কমেছে। শ্বাসকষ্টও আগের মতো নেই। আরও কয়েক ঘণ্টা দেখে তাঁকে বিকেলেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মেডিক্যাল বোর্ড। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, আগামী কয়েকটা দিন সাবধানে এবং বিশ্রামে থাকতে হবে সত্যেন্দ্র জৈনকে।
গত রবিবার দিল্লির কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডাকা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। গত সপ্তাহে কেজরিওয়ালেরও জ্বর এসেছিল। সঙ্গে ছিল গলা জ্বালা করার মতো সমস্যাও। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীরও কোভিড টেস্ট হয়। তাঁরও রিপোর্ট এসেছিল নেগেটিভ।
দিল্লিতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। সংক্রমিতের সংখ্যার নিরিখে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুর পরই তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজধানী দিল্লি। গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট দিল্লির কোভিড পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছিল। শীর্ষ আদালত এও বলেছিল, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের গাইডলাইন দিল্লিতে মানা হয়নি। করোনায় যাঁরা মারা যাচ্ছেন তাঁদের দেহের যত্ন নেওয়া হচ্ছে না বলেও কেজরিওয়াল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
গতকাল দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বৈজল। সেখানে অমিত শাহ বলেন, ২০ জুন থেকে দিল্লিতে দিনে ১৮ হাজার নমুনা পরীক্ষা হবে। সেইসঙ্গে কেন্দ্রের তরফে এও বলা হয় কন্টেইনমেন্ট জোনে সবার কোভিড টেস্টের বন্দোবস্ত করা হবে। দিল্লি নিয়ে যখন ক্রমশ উদ্বেগ বাড়ছে তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অসুস্থতা তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। রিপোর্ট আসার পর স্বস্তি ফিরল রাজধানীর প্রশাসনে।