দ্য ওয়াল ব্যুরো: আশঙ্কা ছিল তামিলনাড়ুর উত্তর উপকুলে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। কিন্তু রবিবার দুপুরের পর তামিলনাড়ুবাসীর জন্য আশার কথা শোনাল ইন্ডিয়ান মিটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট ( আইএমডি )। জানিয়ে দেওয়া হলো, গতিপথ পরিবর্তন করতে চলেছে এই ঘূর্ণিঝড়। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর থেকে গতিপথ পরিবর্তন করে উত্তর-পশ্চিম দিকে গিয়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ফণী।
আইএমডি’র রিজিওনাল ডিরেক্টর এস বালাচন্দ্রন জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় ফণী চেন্নাই উপকূল থেকে ঠিক ১ হাজার ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এখনও এই ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পশ্চিম দিকেই এগোচ্ছে। কিন্তু ৭৫০ কিলোমিটার এগনোর পর বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী নিম্নচাপের প্রভাবে দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে এই ঘূর্ণিঝড়। তারপর তা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলের দিকে যাবে।”
তবে এই দিক পরিবর্তনের একটি খারাপ প্রভাবও পড়তে চলেছে তামিলনাড়ু উপকূলে। ঘূর্ণিঝড় দিক পরিবর্তন করায় হঠাৎ করেই ফের এই রাজ্যের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বালাচন্দ্রন। তাঁর বক্তব্য, “যেহেতু ঘূর্ণিঝড় ফণী দিক পরিবর্তন করতে চলেছে, তাই তামিলনাড়ু উপকূলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হবে। শুধু তামিলনাড়ু নয়, অন্ধ্রপ্রদেশেও বৃষ্টির পরিমাণ কম হবে।” এই সময় বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে জেলেদের। আইএমডি-র তরফে জানানো হয়েছে, “যেহেতু বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ঘূর্ণিঝড় নিজের শক্তি বাড়াচ্ছে, তাই জেলেদের এই মুহূর্তে সে দিকে মাছ ধরতে যাওয়া নিরাপদ নয়।”
তবে একটি বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, এখনও কী হতে পারে, তা নিশ্চিত নয়। তারা জানিয়েছে “এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, ঘূর্ণিঝড় ফণী কতটা দিক পরিবর্তন করবে। এমনকী তামিলনাড়ু উপকূলের উপর যে কোনও প্রভাব পড়বে না, তা এখন থেকেই বলা যাচ্ছে না। এখনও পুরোটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে তবেই কিছু বলা সম্ভব।”
আইএমডি’র তরফে জানানো হয়েছে, “গত ২০০ বছরে ১৯৯৮ সালের ৩০ মে ও ২০০৩ সালের ৩১ মে চেন্নাইয়ে সবথেকে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। দুটি ক্ষেত্রেই বঙ্গোপসাগরের উপর ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার পর তা বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের দিকে ঘুরে গিয়েছিল। ১৯৯৮ সালের ৩০ মে তাপমাত্রা হয়েছিল ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপপ্রবাহে সে দিন ১০০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০০৩ সালের ৩০ মে তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৪৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ দিনও তাপপ্রবাহে ২৫০০ মানুষ মারা গিয়েছিল। তেমনই অবস্থা হতে পারে এ বছর।” তবে তাপমাত্রা কতটা বাড়বে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আইএমডি।
আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী দিক পরিবর্তন করে বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলে আঘাত করলে তার সামান্য প্রভাব পড়তে পারে এ রাজ্যেও। হয়তো তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। এর প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে কিছুটা বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু তাতে বিশাল কিছু তাপমাত্রার হেরফের হবে না। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেটে গেলেই ফের হু-হু করে বাড়তে থাকবে তাপমাত্রা।