দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫৬২। অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালেই তামিলনাড়ুতে করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১। এছাড়াও আরও দুই বিদেশি পর্যটকেরও মৃত্যু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, গুজরাতে নতুন করে আরও ৩জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই রাজ্যে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরেও ৫জন আক্রান্তের খবর মিলেছে। মধ্যপ্রদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪। এই ৫৬২ আক্রান্তের মধ্যে অবশ্য ইতিমধ্যেই ৪০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
বুধবার ভোরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তামিলনাড়ুতে। এই প্রথম এই রাজ্যে করোনা-আক্রান্ত কেউ মারা গেলেন। জানা গিয়েছে, তামিলনাড়ুর ওই ব্যক্তির বয়স ৫৪ বছর। বহুদিন ধরে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ও থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগে কোভিড ১৯ পজিটিভ ধরা পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানেই মারা যান তিনি। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। এই মুহূর্তে তামিলনাড়ুতে করোনা-আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৮। কিন্তু এই প্রথম কারও মৃত্যু হল এই রাজ্যে।
তামিলনাড়ুর এই ঘটনা নিয়ে ভারতে সব মিলিয়ে মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২ জন বিদেশি নাগরিক। একজন ইতালির পর্যটক। ৬৯ বছরের এই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল জয়পুরে। আর একজন ফিলিপিন্সের বাসিন্দা। ৬৮ বছরের এই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সূত্রের খবর, ফিলিপিন্সের বাসিন্দাও শ্বাসকষ্ট নিয়েই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁরও উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা ছিল। মারা যাওয়ার আগে পুরোপুরি বিকল হয়ে গিয়েছিল কিডনি। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন এই বৃদ্ধ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
ভারতে ক্রমশই কোভিড ১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সন্ধেবেলা জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন, ২১ দিন দেশজুড়ে লকডাউন চলবে। এই ২১ দিন বাড়ির ভিতরে থাকলে করোনা অনেকটা কাবু করে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রধানমন্ত্রীর।