দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরফ যে আপাতত গলে গিয়েছে তা বোঝা গিয়েছিল সোমবার রাতেই। একমাস ধরে চলা নাটকে আনুষ্ঠানিক যবনিকা পড়তে চলেছে বৃহস্পতিবার। তোপ-পাল্টা তোপ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পর্ব মিটিয়ে অবশেষে আজই মুখোমুখি হতে চলেছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট ও বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলট।
আগামী কাল, শুক্রবার রাজস্থান বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন রয়েছে। তার আগের দিন আজ, রাজস্থানের কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠক হবে। সেখানেই গেহলট ও পাইলট মুখোমুখি হবেন বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার জয়পুর ফিরেছেন শচীন। আজ হয়তো দ্বন্দ্ব মিটিয়ে গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা দিয়ে পাশাপাশি দাঁড়ানোর ফ্রেম তৈরি হবে মরুরাজ্যে।
দু’দিন আগেই কংগ্রেস হাইকম্যান্ড থেকে জানানো হয়েছিল, রাজস্থানের বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলটকে নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল তা মিটে গিয়েছে। বুধবার বিদ্রোহীদের নিয়ে সুর নরম করেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও। তাঁর অনুগামী বিধায়করা গত কয়েকদিন ধরে আছেন জয়সলমিরের এক হোটেলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি বলেন, বিধায়করা স্বাভাবিক কারণেই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন। তবে পুরানো কথা ভুলে যাওয়াই ভাল। আমি বিধায়কদের বলেছি, ফরগেট অ্যান্ড ফরগিভ। আগামী দিনে আমরা কী ভাবে রাজ্যের উন্নতির জন্য কাজ করব, তা নিয়েই এখন মাথা ঘামানো যাক।
বর্ষীয়ান গেহলট আরও বলেন, “কেউ ভুল করলে তাকে ক্ষমা করা উচিত। গণতন্ত্রের জন্য আমাদের অনেক কিছু মেনে নিতে হবে। এখন দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। আমার পক্ষে ১০০ জনের বেশি বিধায়ক আছেন। কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশে বিজেপি যা করেছিল, রাজস্থানে তা করতে পারেনি। গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।”
সোমবার ‘ঘর ওয়াপসি’ হয় রাজস্থানের বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলটের। বিকালে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন শচীন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া। সন্ধ্যায় শচীন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকটি নীতিগত প্রশ্ন তোলার জন্য তাঁরা বিদ্রোহ করেছিলেন। তাঁর কথা শোনার জন্য শচীন ধন্যবাদ দেন প্রিয়ঙ্কাকে। রাহুল বলেছেন, শচীনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের প্যানেল তৈরি হবে। প্রিয়ঙ্কা তার সদস্য হবেন।
গত সওয়া এক মাস ধরে কী হয়নি রাজস্থানে! কংগ্রেসের ভিতরকার কোন্দল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। একটা সময় তো রটেই গিয়েছিল, রাজস্থানের জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া হতে চলেছেন পাইলট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। নিজের অনুগামী বিধায়কদের জড়ো করে রেখে অশোক গেহলট ম্যাজিক ফিগার ধরে রেখেছিলেন। রাজভবন ও মুখ্যমন্ত্রীর দ্বন্দ্বও চরমে ওঠে। তবে সব কিছুর অবসান ঘটতে চলেছে আজ।