দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাদল অধিবেশনের পঞ্চম দিনেও পেগাসাস বিতর্কে উত্তাল সংসদ। দু’দিন আগেও অধিবেশনের শুরুতে পেগাসাস কেলেঙ্কারি নিয়ে তুমুল বিক্ষোভের জেরে সাময়িক মুলতুবি ঘোষণা করা হয় সংসদের দুই কক্ষ। বিষয়টি নিয়ে এমনিতেও রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে। সংসদের ভিতরে ও বাইরে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। আজ শুক্রবারও অধিবেশন শুরুর আগেই সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন একাধিক বিরোধী দলের সাংসদরা।
এ দিন অধিবেশন শুরুর আগে গান্ধী মূর্তির সামনে বিক্ষোভে সামিল হন কংগ্রেস, ডিএমকে ও শিবসেনার সাংসদরা। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিও তোলেন তাঁরা। ফোনে আড়ি পাতার বিষয়ে তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও দাবি করা হয়।
রবিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ফোনে আড়ি পাতার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় দেশ। ইজরায়েলি নজরদারি সংস্থা এনএসও গ্রুপের তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়ার দেশের তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী সহ তিনশোরও বেশি ফোনে আড়ি পেতে তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে বলে খবর শোনা গেছে। সরকার ও বিরোধী পক্ষের একাধিক ব্যক্তিত্বের ফোন হ্যাক হয়েছে বলেও জানা গেছে। সেই তালিকায় রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের নামও পাওয়া গিয়েছে। তারপর থেকেই আশঙ্কা করা হয়েছিল এই বিতর্কের জল বহুদূর অবধি গড়াবে। আর হয়েছেও তাই। সংসদের বাদল অধিবেশন প্রথম দিন থেকেই অগ্নিগর্ভ। উচ্চকক্ষে একদিন ১২টা ও একদিন দুটো অবধি অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়েছিল। ওয়েলে নেমে তুমুল হই-হট্টগোল করেছিলেন বিরোধী দলের সাংসদরা। সংসদের বাইরে ধর্নাতেও বসেছিলেন তৃণমূলের সাংসদরা।
পেগাসাস নিয়ে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেছেন, দুটো এজেন্ডা নিয়ে সরকারের জবাব চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, দেশের জনসাধারণের তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা এবং দ্বিতীয়ত, সাইবার নিরাপত্তা। ফোনে আড়ি পেতে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে সে নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে স্ট্যান্ডিং কমিটির। তারুরের নেতৃত্বাধীন স্ট্যান্ডিং কমিটি এক বিবৃতিতে আগেই বলেছিল, তারা নাগরিকদের তথ্যের সুরক্ষা, গোপনীয়তা নিয়ে আলোচনা করবে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তিমন্ত্রকের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ডেকে আড়ি পাতার অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিন কংগ্রেস সাংসদ আরও বলেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। আমরা চাইছি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি তৈরি হোক।
সোমবার লোকসভায় সরকারের হয়ে বক্তব্য পেশ করেন নতুন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিন বৈষ্ণো। সংসদের বাইরে বিজেপির তরফে বক্তব্য পেশ করেন প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। তাঁরা দু'জনেই ব্যাখ্যা করেন, ফোনে আড়ি পাতার জন্য দেশে কী আইন আছে। কিন্তু বিরোধীরা বার বার প্রশ্ন করা সত্ত্বেও দু'জনেই যে প্রশ্নের জবাব দেননি, তা হল, সরকার কি পেগাসাস স্পাইওয়ার কিনেছে? যদি কিনে থাকে, কীভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই গুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁদেরও দাবি, পেগাসাস নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করুক কেন্দ্রীয় সরকার। না হলে এই বিরোধিতা চলবে।