দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবেশ নিয়ে সচেতনতামূলক কাজের জন্য তিনি বরাবরই বিখ্যাত। সেলুলয়েডের জ্যাককে বহু লোক তাঁর সমাজসেবার কারণেও চেনেন। এ বার চেন্নাইয়ের জল সংকট নিয়েও সরব হলেন হলিউড অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও।
সারা দেশে জলের জন্য ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে হাহাকার। খুব তাড়াতাড়িই দেশের একাধিক শহর জলশূন্য হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে খোদ সুপ্রিম কোর্ট। এ বছরের গ্রীষ্ম শুরুর আগে থেকেই বারবার উঠে এসেছে মহারাষ্ট্রের নাম। সে রাজ্যই এখন সব চেয়ে বেশি ভুগছে জলকষ্টে। তবে মহারাষ্ট্রের সঙ্গেই জলকষ্টে পাল্লা দিচ্ছে দক্ষিণের শহর চেন্নাই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন ছবি। যেখানে দেখা গিয়েছে, একগাদা জলের পাত্র নিয়ে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাসিন্দারা। কিন্তু জল মিলছে না চেন্নাই শহরে। এমনকী জলের বোতলের যা দাম, তার দ্বিগুণ দামেই দেদার বিকোচ্ছে বাজারে। এই অবস্থায় নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি ছবি শেয়ার করেছেন লিও। যেখানে দেখা যাচ্ছে গভীর একটা কুয়োর পাড়ে জলের কলসি নিয়ে লাইন দিয়েছেন বেশ কিছু মানুষ। কয়েকজন মহিলা কুয়ো থেকে জল তোলার চেষ্টাও করছেন। তবে ফল মিলছে না কিছুই। দড়ির টানা ফাঁকা কলসিই উপরে উঠছে বারবার।
https://www.instagram.com/p/BzJYT-XF3cK/
বাস্তবে এমন ভয়াবহ দৃশ্যই দেখছে চেন্নাই। নিজের পোস্টেও সেই কথাই লিখেছেন অভিনেতা। তিনি বলেছেন, "একমাত্র বৃষ্টিই পারে চেন্নাইকে রক্ষা করতে। একটা কুয়ো যেখানে একটুও জল নেই। আর একটা শহরও প্রায় জলশূন্য হতে চলেছে। কারণ শহরের চতুর্থ বৃহত্তম জল ভাণ্ডারটাও শুকিয়ে যেতে বসেছে।" প্রসঙ্গত, চোলাভরম ( সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১০১৮ মিলিয়ন কিউবিক ফিট), রেডহিলস (সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৩৩৩০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট) এবং চেম্বরমবক্কম লেক (সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৩৬৪৫ মিলিয়ন কিউবিক ফিট)------এই তিনটি জলাধার থেকেই মূলত জল সরবরাহ হতো চেন্নাই শহরে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটাই যে এই তিনটি জল ভাণ্ডারই শুকিয়ে গিয়েছে। চতুর্থ জলাধারটির নাম পুণ্ডি। সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৩২৩১ মিলিয়ন কিউব ফিট। কিন্তু এটিও শুকিয়ে যেতে বসেছে বলেই জানিয়েছেন পরিবেশবিদদের একাংশ। জানা গিয়েছে, এই জলাধারটিতে মাত্র ১৯ মিলিয়ন কিউবিক ফিট জল পড়ে রয়েছে।
চেন্নাইয়ের এই তীব্র জলসংকটের কথাই বারবার করে নিজের লেখায় তুলে ধরেছেন লিও। তিনি লিখেছেন, "ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোকজনকে সরকারি ট্যাঙ্ক থেকে জল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। জলের লেভেল মারাত্মক নেমে গিয়েছে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে। বন্ধ রাখা হয়েছে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ। এমনকী মেট্রোতে এসিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিক্লপ রাস্তা খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে চেন্নাই প্রশাসন। তবে বাসিন্দারা কেবল প্রার্থনা করছেন ভারী বৃষ্টির জন্য।"
এ বছর গরমের শুরুতেই বিজ্ঞানীরা দাবি করেছিলেন তীব্র জল সংকটে ভুগবে ভারত। আগামী বছরের মধ্যেই দেশের ২১টি বড় শহরে জলের দারুণ অভাব দেখা যাবে বলেও জানিয়েছিলেন তাঁরা। এর মধ্যেই চেন্নাইয়ের জল সংকটের খবর প্রকাশ্যে আসায় আশঙ্কায় ভুগছেন দেশবাসী।