দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি চলছে কেরলের একাধিক জেলায়। অধিকাংশ জায়গায় লাল সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি। অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কেরলে। এর মধ্যেই আজ সকালে ইদুক্কি জেলায় নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে মাটি আলগা হয়ে ধস নেমেছে। ভূমিধসে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৩ জনের। চা-বাগানের কাছে ধস নামায় টি-এস্টেটের অন্তত ৮০ জন লোকের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কোদাগু এলাকায় মাটি ধসের ফলে নিখোঁজ হয়েছেন ৫ জন।
ইদুক্কি জেলার মুন্নারের কাছে এই ধস নেমেছে। এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য বায়ুসেনার সাহায্য চেয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টির প্রভাবে কেরলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মালাপ্পুরমে লাল সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি। এ ছাড়াও এর্নাকুলাম, ইদুক্কি, পালাক্কর, ত্রিশুর, ওয়ানাদ, কোঝিকোর, কান্নাউর, কাসারগোদ এলাকায় আজকের জন্য অরেঞ্জ সতর্কতা জারি হয়েছে। আইএমডি জানিয়েছে, ৯ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে কেরলে।
মূলত ইদুক্কি জেলার রাজামালাই এলাকায় আজ সাড়ে এগারোটা নাগাদ এই ভূমিধস হয়েছে। মুন্নার থেকে এর দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, এনডিয়ারএফ-এর একটি দল ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। সূত্রের খবর, এ দিন সকালে কন্নন দেবন এস্টেট ও তার সংলগ্ন এলাকায় প্রবল ধস নামে। চাপা পড়ে যায় বেশ কয়েকটি বাড়ি।
কেরলের লাগাতার অতি ভারী বৃষ্টি ফিরিয়ে আনছে গত দু'বছরের ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি। ২০১৮ সালের অগস্ট মাসে বন্যার ভয়াল রূপ দেখেছিল কেরল। বন্যার জেরে মারা গিয়েছিলেন ৪৮৩ জন। গত বছরও একই ভাবে প্রবল বৃষ্টি ও লাগাতার ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়েছিল কেরল। এ বছরও নাগাড়ে বৃষ্টিতে বানভাসি উত্তর কেরলের একাধিক জেলা। ক্রমশ আতঙ্ক বাড়ছে দক্ষিণের রাজ্যে।