দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিস্থিতি ক্রমেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই তাঁদের সফর বাতিল করেছেন। এবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সফর নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। কারণ তাঁর অসমেই আসার কথা রয়েছে। নিমন্ত্রণ করেছিল মোদী সরকারই। কিন্তু সেই সফরই বাতিল হতে চলেছে এবার।
কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা ক্যাব নিয়ে উত্তর-পূর্বের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই সেখানে শিনজো আবেকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর উপস্থিতিতে উত্তর-পূর্বের জন্য বহু প্রকল্প ঘোষণা করা হবে, এমন পরিকল্পনাও হয়ে গিয়েছিল। এমনকি জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য ছবিওয়ালা বোর্ডও লাগানো হয়ে গেছিল গুয়াহাটির রাস্তায়।
কিন্তু গত তিন দিনে যা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে শিনজো আবের এই সফর হওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রের নাগরিকত্ব বিল নিয়ে বিজেপি-শাসিত অসমেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে দাউদাউ করে। কার্ফু জারি করা হয়েছে সেখানে। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা।
এই অবস্থায় শিনজো আবের ভারতে আসা আদৌ হবে কিনা, হলে কোথায় হবে, তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়ে গেছে নয়াদিল্লি।
বুধবার রাত থেকেই গুয়াহাটির রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন অন্তত দশ হাজার মানুষ। হাত কেটে রক্ত দিয়ে পোস্টার লিখে স্লোগান তোলেন ছাত্রছাত্রীরা। রাজধানী দিসপুরের সচিবালয়ের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ফেলেন প্রতিবাদীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বঙ্গাইগাঁও ও ডিব্রুগড়ে দু’কলাম সেনা মোতায়েন করা হয়। জোরহাটেও সেনা মোতায়েন করা হয়। ডিব্রুগড়ে জারি হয় ১৪৪ ধারা। সেখানে যে কোনও ধরনের জমায়েত, মিটিং, মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধান্ত হয়, অসমের অন্তত ১০টি জেলায় আরও ৪৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে। গুজব রুখতে বুধবার ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অসমের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, রাজ্য পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আর নেই গোটা পরিস্থিতি। তাই আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হোক সেনাবাহিনীকেই।