দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের বিজেপি নেতা শেখ ওয়াসিম বারিকে খুন করেছে জঙ্গিরা। বিজেপি নেতার ভাই উমর সুলতান এবং বাবা বসির আহমেদ শেখও নিস্তার পাননি জঙ্গিদের নৃশংসতা থেকে। দুই জঙ্গির গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছেন তাঁরাও। এই ঘটনায় পুলিশের হাতে এসেছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ। যেখানে বিজেপি নেতা এবং তাঁর ভাই ও বাবাকে খুন করার আগে দুই জঙ্গিকে দেখা গিয়েছে। পুলিশ জানতে পেরেছে এদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি জঙ্গি। অন্যজন স্থানীয় বাসিন্দা। আরও তথ্য পাওয়ার জন্য এই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। পাশাপাশি এই দুই জঙ্গির খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়ে গিয়েছে।
ঘটনার সময় উত্তর কাশ্মীরের বন্দিপোরায় পারিবারিক দোকানেই ছিলেন বিজেপি নেতা এবং তাঁর বাবা ও ভাই। আচমকাই সেখানে ঢুকে পড়েছে দুই জঙ্গি। এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে তারা। বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৯টা নাগাদ এই হামলা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তিনজনকেই দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় নিহত বিজেপি নেতার দায়িত্বে থাকা ১০ পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, হামলার সময় তাঁরা কেউই বিজেপি নেতার সঙ্গে ছিলেন না।
উপত্যকার পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় হাত রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের। পাশাপাশি এই হামলার পিছনে হাত থাকতে লস্কর-ই-তৈবার। উপত্যকার পুলিশের অনুমান, জইশ এবং লস্করের পরিকল্পনা অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীরের স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনে সঙ্গে একজোট হয়ে এই হামলা করেছে ওই দুই জঙ্গি। এর পাশাপাশি পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন সীমান্ত পার করে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করিয়েছে বলে অনুমান পুলিশের। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের আইজি বিজয় কুমার জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে লস্করের যে জঙ্গিকে শনাক্ত করা হয়েছে তার নাম আবিদ হাকানি। এই আবিদ এবং তার সঙ্গীর খোঁজে জোরকদমে চলছে তল্লাশি অভিযান। বুধবার সন্ধ্যায় বন্দিপোরা থানা থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বে এমন নৃশংস কাণ্ড ঘটেছে। পুলিশের অনুমান, অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এই হামলা করা হয়েছে।