দ্য ওয়াল ব্যুরো: “আজ কি সুইটু কাল কি #মিটু হো সকতি হ্যায়।“ সোশ্যাল মিডিয়ায় আপাতত ভাইরাল এই ডায়লগ। সৌজন্যে, অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টা।
সম্প্রতি #মিটু প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য জিজ্ঞাসা করা হয় প্রীতিকে। ‘বলিউড হাঙ্গামা’-কে তিনি জানান, এ ধরণের কোনও অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। তবে থাকলে তিনি খুশিই হতেন। অন্তত এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে পারতেন বলে জানান অভিনেত্রী।
প্রীতির এই মন্তব্যের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল হচ্ছেন অভিনেত্রী। প্রীতি বলেন, “মানুষকে তোমার সঙ্গে যেমন ব্যবহার করার সুযোগ তুমি দেবে সে তেমনই করবে। আজ কি সুইটু কাল কি #মিটু হো সকতি হ্যায়।“ তবে এখানেই থামেননি প্রীতি। বলেন, “অনেকের সঙ্গেই অনেক খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে এখন অনেক মহিলাই পাবলিসিটির জন্যেও #মিটু-র অপব্যবহার করছেন।“ তিনি আরও বলেন, “#মিটু-র বিষয় কেবল বলিউড নয়, সব ক্ষেত্রেই রয়েছে। কয়েকজন খারাপ লোকের জন্য গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে খারাপ বলা উচিত নয়। কারণ অনেক ভালো লোকও এখানে রয়েছেন।“
https://youtu.be/hAayKXXa_Kk
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ড নেস ওয়াদিয়ার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন প্রীতি। নেসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলায় করেন তিনি। সেই মামলা কোর্টের বাইরেই মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় বম্বে হাইকোর্ট। চলতি বছরের ১ অক্টোবর বম্বে হাইকোর্টে বিচারপতি রঞ্জিত মোরে ও বিচারপতি ভারতী ডাংরের ডিভিশন বেঞ্চ এই উপদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ শোনার পর অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টার আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল কোর্টের বাইরে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলতে পারেন, যদি অভিযুক্ত নেস ওয়াদিয়া তাঁর কাছে ক্ষমা চান। তাতে নেস ওয়াদিয়ার আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল ক্ষমা চাইতে রাজি নন। নেসের আইনজীবী বলেন, ”আমরাও মামলা কোর্টের বাইরে মিটিয়ে নিতে চাই। কিন্তু নেস ওয়াদিয়া ক্ষমা চাইতে রাজি নন। কারণ এর মাধ্যমে প্রীতি জিন্টা মিডিয়ার আকর্ষণ পেতে চান।”
প্রসঙ্গত, ঘটনাটি ২০১৪ সালের ৩০ মে’র। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব খেলার সময় ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় প্রীতি ও নেস দুজনেই কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কো-ওনার ছিলেন। প্রীতি জিন্টার অভিযোগ, ম্যাচ চলাকালীন টিকিট বন্টন নিয়ে দলের এক কর্মীকে খুব বাজেভাবে কথা শোনাচ্ছিলেন নেস ওয়াদিয়া। সেই সময় প্রীতি তাঁকে শান্ত হতে বলেন। কিন্তু নেস তখন তাঁর শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করেন প্রীতি।
এর ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১৩ জুন নেস ওয়াদিয়ার বিরুদ্ধে আইপিসি সেকশন ৩৫৪, ৫০৪, ৫০৬ ও ৫০৯ নম্বর ধারায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে এফআইআর করেন প্রীতি। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নেস ওয়াদিয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। তারপরেই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে নেস ওয়াদিয়া এই কেসকে বন্ধ করার আবেদন জানান। তিনি আবেদন করে বলেন, যা ঘটেছিল পুরোটাই ভুল বোঝাবুঝি। প্রীতি জিন্টা ব্যক্তিগত রাগ থেকে এই অভিযোগ করেছেন।
প্রায় ৪ বছর আগে নেস ওয়াদিয়ার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন প্রীতি। আর ২০১৮-তে দাঁড়িয়ে তিনিই #মিটু প্রসঙ্গে বলছেন, তাঁর কোনও তিক্ত অভিজ্ঞতা নেই। তাহলে কী আগে মিথ্যে অভিযোগ এনেছিলেন প্রীতি? নেসের বলা কথা, ‘ব্যক্তিগত রাগ’ থেকেই এমন করেছেন প্রীতি----সেটাই কী তাহলে সত্যি? বলিউডের অন্দরমহলে এখন বারবার উঠছে এই সব প্রশ্নই। এ দিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে প্রীতি জিন্টার পাল্টা দাবি তাঁর সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি এডিট করে জটিল ভাবে পোস্ট করেছে ওই সংস্থা।