দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হওয়া নিম্নচাপ গতকাল থেকেই ক্রমশ উত্তর-পশ্চিমে সরতে শুরু করেছে। যার প্রভাব শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির দাপট কমেছে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ভাগে।
কিন্তু গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে ওড়িশার বিভিন্ন অঞ্চলে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ভদ্রক জেলায়। মধ্যরাতেই বেশ কিছু জেলায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। ওড়িশার মূল কয়েকটি নদী যেমন বৈতরণী, ব্রাহ্মণী, সুবর্ণরেখা এবং বুধাবালাঙ্গা নদীতে জলের মাত্রা বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বিপদসীমার একদম কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে এইসব নদীর জলের মাত্রা।
https://twitter.com/i/status/1299156011584954368
ইতিমধ্যেই নিম্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭ হাজার লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওড়িশার বেশ কিছু জেলা যেমন ময়ূরভঞ্জ, বালাসোর, জাজপুর, ভদ্রক, বৌধ, কেন্দ্রপাড়া এবং সোনেপুর-এইসব জায়গায় তুমুল বৃষ্টি হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভদ্রক জেলায় বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে বৈতরণী নদী। জলের তলায় ডুবেছে নিচু এলাকার ধানক্ষেত। বুধবার থেকে গড়ে ৫৬ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে ওড়িশায়।
জানা গিয়েছে, বৈতরণী নদীতে ক্রমশ বাড়ছে জলের মাত্রা। ভদ্রক জেলার প্রায় সব এলাকায় জলমগ্ন হয়েছে। ডুবে গিয়েছে একরের পর একর চাষের জমি। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু করেছিএ এনডিআরএফের দল। সেই সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে ওড়িশা ডিজাস্টার রিলিফ ফোর্স (ওডিআরএফ)। জলমগ্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষকে উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
https://twitter.com/i/status/1299163001652535296
গত তিনদিনে প্রবল বৃষ্টি এবং বন্যায় ওড়িশায় মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২ জন। আইএমডি পূর্বাভাস দিয়েছে যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ছত্তিশগড় এবং ওড়িশার পশ্চিম ভাগে ভারী বৃষ্টি হবে। এর ফলে মহানদীতে জলের মাত্রা বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তবে কেবল ছত্তিশগড় বা ওড়িশা নয় আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী চার থেকে পাঁচদিন উত্তর ও মধ্য ভারতের একাধিক রাজ্যে ঝেঁপে বৃষ্টি হবে।