যুবককে পিষে দিয়েছিল হাতি, দেহ নিতে চায়নি পরিবার, শেষকৃত্য করল পুলিশ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে পিষে দিয়েছিল হাতি। মৃত্যুর পর দেহ নিতে অস্বীকার করে পরিবার। পাছে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে যায় সেই ভয়ে শেষকৃত্যটুকুও করতে চায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত সহায় হলেন তিন পুলিশকর্মী। অপরিচিত ওই যুবকের সৎকার করেছ
শেষ আপডেট: 9 May 2020 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে পিষে দিয়েছিল হাতি। মৃত্যুর পর দেহ নিতে অস্বীকার করে পরিবার। পাছে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে যায় সেই ভয়ে শেষকৃত্যটুকুও করতে চায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত সহায় হলেন তিন পুলিশকর্মী। অপরিচিত ওই যুবকের সৎকার করেছেন তাঁরাই।
এই ঘটনা দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটকের। দিন চারেক আগে কর্নাটকের সীমান্তে মাইসোরের কাছে চমরাজনগর জেলায় ওই যুবককে পিষে দিয়েছিল এক দাঁতাল হাতি। মানুষ এবং বন্যপ্রাণের সংঘাত এই এলাকার বহু পুরনো ঘটনা। এ যাত্রায় বুনো হাতির শিকার হয়েছিল এই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। তারপর শেষকৃত্যের জন্য পরিবারের হাতে দেহ তুলে দিতে গেলে আপত্তি জানায় আত্মীয়রা।
পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার পরিবারকে বোঝানো হয় যে হাতি পিষে দেওয়ার কারণেই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর পিছনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বা অন্য কোনও কারণ নেই। কিন্তু এসব শুনেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল যুবকের পরিবার। শেষ পর্যন্ত দেহ সৎকারের কাজে এগিয়ে আসেন তিন পুলিশকর্মী। চমরাজনগরের একটি শ্মশানে সম্পন্ন হয় যুবকের শেষকৃত্য। তবে কোনও পুরোহিত আসতে না চাওয়ায় সবটাই সামলেছেন ওই তিন পুলিশকর্মী।

সাব-ইন্সপেক্টর মাদেগৌড়া নিজেই ওই শ্মশানে একটি গর্ত খোঁড়েন। দেহ মুড়ে রাখার জন্য সাদা কাপড় জোগাড় করেন বাকি দু’জন। তারপর তিনজন মিলে সুষ্ঠু ভাবে সমাধিস্থ করেন ওই যুবককে। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনাও করেছেন তিন পুলিশকর্মী।
সাধারণত পুলিশ মানে সাধারণ মানুষের কাছে ভয়েরই কারণ। তবে এবার উর্দিধারীদের দেখা গেল একদম অন্য রূপে। পুলিশকর্মীদের এমন মানবিক আচরণের কথা শুনে তাঁদের কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলেই।