দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তার আগেই ধরা পড়ে গেল উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়া জেলার ভয়ানকনাথ মন্দিরে দুই সাধুর খুনের ঘটনায় অভিযুক্তরা। পুলিশ সূত্রে খবর অভিযুক্ত পাঁচ জন মুসলিম যুবক। অভিযুক্ত আরও চার জন পলাতক।
প্রসঙ্গত, বুধবার লখনউ থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরে আউরাইয়া জেলার ভয়ানকনাথ মন্দিরে নিজেদের খাটিয়ার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দুই সাধুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁদের বুকে একাধিকবার ছুড়ির আঘাতের চিহ্ন ছিল। রক্তে ভেসে গিয়েছিল চারদিক। লজ্জা রাম (৬৫) ও হালকে রাম (৫৩) ছাড়াও রামশরণ নামের আরেক সাধুকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনা সামনে আসতেই বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বেশ কিছু গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ভেঙে দেওয়া হয় অনেক দোকান-পাট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাটিচার্জ ও শূন্যে গুলিও ছুঁড়তে হয়। স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে গরু চুরি ও গো-হত্যার ঘটনা ঘটছিল। তার বিরুদ্ধেই এলাকায় প্রচার চালাচ্ছিল ওই তিন সাধু। তার ফলেই তাঁদের উপর আক্রমণ হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
কিন্তু দুদিন কেটে গেলেও আততায়ীর কোনও হদিশ না মেলায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আউরাইয়া থানার পুলিশ ইনচার্জকে কর্তব্যে অবহেলার জন্য সাসপেন্ড করেন। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন রবিবারের মধ্যে অপরাধীদের খুঁজে বের করতে। বারো জন সদস্যের চারটি দল তৈরি করে খোঁজ শুরু করে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের জালে ধরা পরে পাঁচ জন।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেরার মুখে পাঁচ জনই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, গোহত্যার বিরুদ্ধে সাধুদের প্রচারে রেগে গিয়েই তারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এবং তার জন্য তারা বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নয়। এই ঘটনায় তাদের সঙ্গে আরও চার জন ছিল। তাদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
ধৃতদেরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খুন, ধার্মিক উত্তেজনা ছড়ানোর ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।