দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাম্প্রতিক সময়ে ২০২০ সালের মত বিপর্যয় বোধহয় আর কোনও বছর দেখায়নি। সারা দেশজুড়ে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। সেইসঙ্গে নতুন উপদ্রব পঙ্গপাল। এছাড়াও রয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের বন্যা এবং হড়পা বান, উত্তর ও মধ্য ভারতের তাপপ্রবাহ, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশায় হওয়া সুপারসাইক্লোন উমফান। প্রকৃতির তাণ্ডবলীলায় বিপর্যস্ত গোটা দেশ। এর মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবছর গরমকালে যে হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে এটা বলাই যায় যে ২০২০ সাল উষ্ণতম হতে চলেছে। ভাঙতে চলেছে তাপমাত্রার সমস্ত রেকর্ড।
সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা ‘হিন্দুস্থান টাইমস’-এর হিন্দি পাবলিকেশন ‘হিন্দুস্থান স্টেটস’ এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলভমেন্ট-এর রিপোর্ট অনুসারে এমনটাই জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উত্তর এবং মধ্য ভারতে চলেছে তাপপ্রবাহ। রাজধানী শহর দিল্লিতে জারি হয়েছিল সিভিয়ার হিটওয়েভ অ্যালার্ট। দিল্লির পারদ পৌঁছেছিল ৪৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাজস্থানের চুরুতে তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আপাতত পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে বৃষ্টির দৌলতে খানিক স্বস্তি পেয়েছেন বাসিন্দারা।
নতুন রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মূলত উত্তর গোলার্ধে থাকা দেশগুলির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাবে। এই তালিকায় রয়েছে ভারত এবং বাংলাদেশ। অনুমান এই তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ কন্ডিশন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেখা যাবে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলভমেন্ট-এর রিপোর্টের আগেও এই একই কথা বলেছিলেন ভারতের আবহবিদরা। ২০২০ সালের শুরু থেকেই একদল আবহবিদ ভারতের জলবায়ুর বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন এবং তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। আর তাঁদেরও ধারণা যে ২০২০ সালই হতে চলেছে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উষ্ণতম।
বিখ্যাত ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর একটি রিপোর্টেও বলা হয়েছে, জলবায়ু গবেষকদের অনুমান, চার বছর আগে তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে রেকর্ড হয়েছিল ২০২০ সালে সেটা ভেঙে যাওয়ার ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-ও তাদের ‘২০২০ গ্লোবাল অ্যানুয়াল টেম্পারেচার র্যাঙ্কিং আউটলুকে’ বলেছে যে, যেদিন থেকে এই তাপমাত্রার রেকর্ড পরিমাপ করা হচ্ছে ততদিনের রেকর্ড ভেঙে দেবে ২০২০ সালের তাপমাত্রা। অন্তত ৭৪ শতাংশ তেমনটাই সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি এই রিপোর্টের।
যদিও আইএমডি-র পূর্বাভাস চলতি বছর নির্ধারিত সময়ে কেরলে ঢুকবে বর্ষা। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিও হবে পরিমাণ মতো। তবে তার ফলে তাপমাত্রার এই রেকর্ডে বিশেষ হেরফের হবে না বলেই অনুমান করছেন আবহবিদরা।