দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত হলেন প্রাক্তন সমাজবাদী পার্টি নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ অমর সিং। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। শনিবার দুপুরে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০১৩ সাল থেকে কিডনির অসুখে ভুগছিলেন অমর সিং।
গতকালই টুইট করে স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতা। একই সঙ্গে ইদেরও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তিনি। অসুস্থ হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিক ভাবে সক্রিয় ছিলেন অমর সিং। হাসপাতালের বেডে শুয়েই গত ২২ মার্চ, জনতা কার্ফুর দিন একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ফেসবুক এবং টুইটারে। তাতে তাঁর অনুগামীদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছিলেন, যাতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে থাকেন।
গত ২ মার্চ রটে গিয়েছিল অমর সিং প্রয়াত হয়েছেন। সেই সময়েও হাসপাতাল থেকে ভিডিও বার্তায় সমাজবাদী পার্টি নেতা জানিয়েছিলেন, তাঁর চিকিৎসা চলছে। তাঁর সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে তা স্রেফ রটনা। সেই ভিডিওর শিরোনামে লিখেছিলেন, ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়!’
২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের পারবাণবিকচুক্তি ইস্যুতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ-এ সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল বামেরা। সেই সময় সরকার টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সমাজবাদী পার্টির সাংসদদের সমর্থন করানোর ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন অমর সিং।
এরপর ২০১০ সালে দল বিরোধী কাজের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করে সমাজবাদী পার্টি। তাঁর সঙ্গেই বহিষ্কার করা হয় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী জয়া প্রদাকেও। যদিও বহিষ্কারের পর দল বিরোধী কোনও মন্তব্য করেননি অমর। উল্টে বলেছিলেন, তৎকালীন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মুলায়ম সিং যাদবের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। মুলায়মই তাঁকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিয়েছেন।
আম্বানি ও বচ্চন পরিবারের সঙ্গে অমর সিংয়ের ঘনিষ্ঠতার কথা সর্বজনবিদিত। কিন্তু ২০১৬ সাল নাগাদ প্রকাশ্যে জয়া বচ্চনের সমালোচনা করায় সেই সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। ১৯৯৬ সালে প্রথম রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন অমর সিং। ২০১০ সালে তাঁকে এসপি বহিষ্কারের পর ২০১৬ সালে ফের উত্তরপ্রদেশ থেকে নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সমাজবাদী পার্টির সমর্থন নিয়েই রাজ্যসভা ভোটে নির্দল সাংসদ হিসেবে জিতেছিলেন ১৬ সালে।