'ওরা আমাকেও মেরে ফেলবে!' বুলন্দশহর-কাণ্ডে ক্ষুব্ধ নিহত পুলিশের স্ত্রী, জামিনে মুক্ত অভিযুক্ত
দ্য ওযাল ব্যুরো: "এক দিন হয়তো ওরা আমাকেও মেরে ফেলবে। সেটাই ওদের পক্ষে সব চেয়ে ভাল। কারও অভিযোগ শুনতে হবে না আর ওদের। এই আইনি ব্যবস্থায় আমার আর বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।"-- ক্ষোভে, রাগে, হতাশায় ফেটে পড়ে এই মন্তব্য করলেন ডিসেম্বরে উত্তরপ্রদেশের
শেষ আপডেট: 27 September 2019 04:36
দ্য ওযাল ব্যুরো: "এক দিন হয়তো ওরা আমাকেও মেরে ফেলবে। সেটাই ওদের পক্ষে সব চেয়ে ভাল। কারও অভিযোগ শুনতে হবে না আর ওদের। এই আইনি ব্যবস্থায় আমার আর বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।"-- ক্ষোভে, রাগে, হতাশায় ফেটে পড়ে এই মন্তব্য করলেন ডিসেম্বরে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের হিংসায় নিহত পুলিশ আধিকারিক সুবোধকুমার সিংয়ের স্ত্রী রজনী সিং।
ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ৩৩ জনের মধ্যে সাত জনের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। ছাড়া পেয়েছে মূল অভিযুক্ত যোগেশ রাজও। এর পরে আর বিচারের কোনও আশা দেখছেন না বলেই আক্ষেপ রজনী দেবীর। বরং তাঁর মনে হচ্ছে, এই লড়াই থামানোর জন্য তাঁকেই হয়তো হত্যা করে হতে পারে যে কোনও সময়ে।
অভিযোগ, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ৩ তারিখে, বুলন্দশহরের মাহব গ্রামে ২৫টি গরুর মৃতদেহ দেখতে পায় স্থানীয় দক্ষিণপন্থী সংগঠনের সদস্যরা। তার পরেই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে সেই দেহ কেন্দ্র করে। জড়ো হয় প্রায় ৪০০ জন উন্মত্ত ও উত্তেজিত মানুষ। পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া, গাড়ি ভাঙচুর, আগুন লাগিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে পুলিশকে লক্ষ করে গুলি করার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ ইনস্পেক্টর সুবোধ কুমার সিংয়ের হাতের আঙুল কেটে দেওয়া হয় কুড়ুল দিয়ে। সজোরে আঘাত করা হয় তাঁর মাথায়। চালানো হয় গুলি। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় তাঁর। মূল অভিযুক্ত যোগেশ রাজ-সহ পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয় এই ঘটনায়।
ঘটনার ঠিক এক মাস পরে, ৩ জানুয়ারি মূল অভিযুক্ত যোগেশ রাজকে গ্রেফতার করা হয়। পরে, তার শাস্তিমুক্তির দাবি জানিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার পড়ে দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলির তরফে। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে “শুভেচ্ছা” জানিয়েও তার নামে পোস্টার এবং বিলবোর্ড দেয় বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
অগাস্ট মাসে তদন্তে উঠে আসে অন্য অভিযুক্তদের নামও। সংখ্যাটা ৩৩। গ্রেফতারও করা হয় তাদের অনেককে। কিন্তু জামিনও মেলে সহজেই। একটি ভিডিও-তে দেখা যায়, জামিন পাওয়ার পরে দক্ষিণপন্থী দলগুলি রীতিমতো সম্বর্ধনা জানিয়ে বরণ করছে তাদের। এর পরে বুধবার জামিন পেয়ে যায় যোগেশ রাজও।
নিহত অফিসার সুবোধের স্ত্রী রজনী সিংয়ের অভিযোগ, "এই সমস্ত অপরাধীদের শাস্তি না হলে আর কার হবে! দেশের জন্য সেবা করতে গিয়ে প্রাণ দিয়ে দেওয়া মানুষটি যদি খুনের বিচার না পান, তবে এ দেশে আর কে বিচার পাবে! আমার পক্ষে এই আইনের গতি বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে নীতিবিচার নয়, ক্ষমতাই শেষ কথা বলছে।"
নিহত সুবোধকুমারের ছেলে প্রতাপ সিং বলেন, "এই খুনিদের তো সমাজে বেঁচে থাকার অধিকার নেই। তাদের জেলে ভরলে অন্তত দৃষ্টান্ত তৈরি করা যায়, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।"