গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, “যাঁদের ওপর হামলা হয়েছে তাঁরা জনপ্রতিনিধি। তাঁদের সুরক্ষা কি নেই? এত বড় ঘটনায় যদি পুলিশই নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে কোথায়?”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 9 October 2025 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরাকাটায় (Nagrakata Case) বিজেপির সাংসদ-বিধায়কের (BJP MP MLA) ওপর হামলার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হল বিজেপি।
গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ (Police Investigation) থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সাংসদ-বিধায়ককে রক্ষা করেনি, এমনকী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনও এফআইআর হয়নি। এমনকি যাদের প্রথমে গ্রেফতার করা হয়, তাদের নামও FIR-এ ছিল না!
এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে যান বিজেপি নেতৃত্ব। আইনজীবী ময়ুখ মুখোপাধ্যায়ের মারফত আদালতের অনুমতি চেয়ে মামলা রুজুর আবেদন করা হয়। বিচারপতি ওম নারায়ণ রায় সেই অনুমতি দেন। শুনানি হতে পারে আগামী ১৪ অক্টোবর।
কী ঘটেছিল সোমবার?
সোমবার নাগরাকাটায় ত্রাণ বিলির কাজ করছিলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মূর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। অভিযোগ, সেই সময় একদল দুষ্কৃতী অতর্কিতে হামলা চালায় তাঁদের ওপর। সাংসদের চোখের নীচের হাড় ভেঙে যায়, শঙ্কর ঘোষও গুরুতর জখম হন। একজন উত্তরবঙ্গের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অন্যজন দু’দিন পর ছাড়া পেলেও বিশ্রামে থাকার পরামর্শ পেয়েছেন।
হামলার নেপথ্যে কারা?
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার প্রথম দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়, সাহানুর আলম ও তোফায়েল হোসেন। তাঁদের নাম FIR-এ ছিল না। বৃহস্পতিবার ধরা পড়ে আরও দু’জন, একরামূল হক ও গোবিন্দ শর্মা। এঁদের নাম FIR-এ আছে কিনা, তা নিয়েও ধোঁয়াশা। পুলিশের দাবি, দ্রুত সব অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
বিজেপির অভিযোগ, পুলিশের সামনেই ঘটেছে হামলা, অথচ তারা নিষ্ক্রিয় থেকেছে। এমনকী, FIR-এ অভিযুক্তদের নাম না-থাকা, দেরিতে পদক্ষেপ, সব মিলিয়ে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, “যাঁদের ওপর হামলা হয়েছে তাঁরা জনপ্রতিনিধি। তাঁদের সুরক্ষা কি নেই? এত বড় ঘটনায় যদি পুলিশই নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে কোথায়?”
সেই কারণেই এনআইএ তদন্তের দাবি উঠেছে বিজেপির তরফে। দলের রাজ্য নেতারা বলছেন, “এটা নিছক আক্রমণ নয়, গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।”
এখন দেখার, আদালতে আগামী ১৪ অক্টোবর শুনানিতে কী হয়। তদন্তের দায়িত্ব কি রয়ে যাবে রাজ্য পুলিশের হাতেই, না কি কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্তে নামবে-সে দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।