দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তানের আইনি অধিকার থেকে কোনও ভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না বিবাহবিচ্ছিন্না মায়েদের। এমনকি বিবাহ বিচ্ছেদের আগেও যদি কোনও মা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তবু বিচ্ছেদের পরে সন্তানের ওপর সর্বপ্রথম অধিকার মায়েরই। সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি মামলার শুনানিতে এমনটাই রায় দিলেন বিচারপতি। ভারতের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির নিরিখে এই রায় প্রায় ঐতিহাসিক, এমনটাই মনে করছেন সকলে।
এই রায়ের যুক্তি হিসেবে মহামান্য আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বাবা-মায়ের সম্পর্কের মধ্যে যাই ঘটে যাক না কেন, একটা বাচ্চার বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের স্নেহ ও সাহচর্য সবসময় জরুরি। সম্পর্কের ভাঙাগড়ার কারণে শিশু তা থেকে বঞ্চিত হলে, তার বিকাশের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিবাহবিচ্ছিন্না মায়েদের সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক নিয়ে নানা রকম সমস্যা এদেশে নতুন নয়। বছর ২০ আগেই এ বিষয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও মহিলা দ্বিতীয় বিয়ে করলেও সন্তানের আইনি অধিকার কোনও ভাবেই বদলাবে না।
কিন্তু এলাহাবাদ হাইকোর্টের মামলাটিতে রয়েছে অন্য একটি দিক।
রামকুমার গুপ্ত নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর স্ত্রী সংযুক্তা বিবাহিত সম্পর্কে থাকার সময়েই অন্য সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাই বিবাহবিচ্ছেদের পরে ছেলে আনমোলের আইনি অধিকার পাওয়ার যোগ্য নন মা। এই আবেদন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রামকুমার। তিনি আদালতের কাছে দাবি করেন, সন্তানের সুরক্ষা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। ছেলেকে মায়ের সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তির ঘরে পাঠাতে চান না।
বস্তুত, বিবাহবিচ্চিন্না মা সন্তানের অধিকার পাবেন একথা নিশ্চিত হলেও, বিবাহ বিচ্ছেদের হওয়ার আগেই কোনও মহিলা আলাদা সম্পর্কে থাকতে শুরু করলেও সন্তানের আইনি অধিকার মায়ের থাকবে কিনা, তা নিয়ে আইনি রায় স্পষ্ট ছিল না। এবার তা হয়ে গেল।
এলাহাবাদ আদালত মামলার শুনানিতে রামকুমারের দাবি ও উদ্বেগ নস্যাত করে দিয়ে পাল্টা যুক্তি দিয়েছে, ‘আইন বা সমাজের চোখে কোনও মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের আগেই অন্য সম্পর্কে যুক্ত হওয়াটা অনেকেই সহজে মেনে নিতে পারেন না, কিন্তু কোনও শিশুকে তার মায়ের থেকে এভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াটাও অনুচিত। বেড়ে ওঠার পথে মায়ের সঙ্গ না পেলে শিশুর মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
বিচারপতি জেজে মুনিরের এই রায় স্পষ্ট করেছে, মা ও সন্তানের সম্পর্কের উপর পারিপার্শ্বিক কোনও প্রভাবই কাঙ্ক্ষিত নয়। শুনানি চলাকালীন মা সংযুক্তাও অবশ্য দাবি করেন, রামকুমার বাবা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব মোটেই ভাল ভাবে পালন করেননি। বরং অনেকবারই সংযুক্তা গৃহহিংসার শিকার হয়েছেন। এসব কারণেই তিনি অন্য সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলেও দাবি করেছেন সংযুক্তা।
শেষমেশ ছেলের অধিকার মায়েরই থাকবে কোনও শর্ত ছাড়া-- এমনটাই মঞ্চুর করেছে আদালত।