দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে ভ্রষ্টাচারী নম্বর ওয়ান বলে কটাক্ষ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার জবাব দিলেন ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাগেল। তিনি বললেন, মোদী ভোটের সময় দিনে মাত্র তিন-চার ঘণ্টা ঘুমোন। যাদের দিনের পর দিন ভালো ঘুম হয় না, তারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।
বাগেলের কথায়, রাজীব গান্ধীজি বহু বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর নামে ভোটের সময় আজেবাজে কথা বলা সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়। মোদীর চিকিৎসা দরকার।
কয়েকদিন আগে নরেন্দ্র মোদী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁর কাজের এতই চাপ যে দিনে তিন-চার ঘণ্টার বেশি ঘুমোতে পারেন না। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন অভিনেতা অক্ষয় খণ্ণা। অভিনেতা মোদীকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি তো দিনে তিন-চার ঘণ্টা ঘুমোন। কিন্তু মানুষের দিনে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন হয়, তাই না?
প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রাজীব গান্ধীকে একসময় মানুষ মিস্টার ক্লিন বলে চিনত। কিন্তু তিনি ভ্রষ্টাচারী নম্বর ওয়ান হিসাবে মারা গিয়েছিলেন। কংগ্রেসের উদ্দেশে তিনি চ্যালেঞ্জ করে, বফর্স কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নাম করে ভোটে লড়ুন।
ঝাড়খণ্ডে এক জনসভায় তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করছি, যে পরিবার কংগ্রেসকে চালায়, তাদের যদি সাহস থাকে, দিল্লির ভোটে আপনাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নাম করুন। তাঁর নামে অতীতে গুরুতর অভিযোগ ছিল। তাঁর জন্য গত দু’দিন ধরে আপনারা চোখের জল ফেলছেন।
ওই মন্তব্যের জবাবে রাহুল বলেন, মোদীজি লড়াই শেষ হয়ে গিয়েছে। আপনার কর্মের ফল পাবেন। আপনি নিজের সম্পর্কে যা ভাবেন, তা আমার বাবার নামে বলে লাভ হবে না। আপনি রক্ষা পাবেন না। আপনাকে ভালবাসা জানাই।
রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে আটের দশকে বফর্স কামান কেনায় কিকব্যাক নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পরে দিল্লি হাইকোর্ট বলে, তিনি ঘুষ নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ নেই। তাঁর নামে সব অভিযোগ ডিসমিস করে দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাজীবকে হত্যা করে।
তাঁর বিরুদ্ধে মোদী ওই মন্তব্য করার পরে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম তো বটেই, আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সপা নেতা অখিলেশ সিং যাদবরাও প্রতিবাদ করেন।