দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন শিক্ষানীতি তৈরির ক্ষেত্রে দু’লক্ষের বেশি পরামর্শ পেয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক, সেইসব পরামর্শ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই পরামর্শগুলি বিবেচনা করার পাশাপাশি রাজ্যগুলির সঙ্গেও পরামর্শ করে এগোতে চাইছে বলে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় বলেন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক।
একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি রাজ্যসভায় বলেন, এত বিপুল ভাবে পরামর্শ নিয়ে বিশ্বে এই ধরনের নীতি এই প্রথম গৃহীত হচ্ছে যা ভারত-কেন্দ্রিক হলেও তার মধ্যে থাকছে আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং তা হবে গবেষণা ও উন্নয়নমাত্রিক।
তিনি বলেন, “কস্তুরিরঙ্গন কমিটির করা নতুন শিক্ষানীতির খসড়া পাবলিক ডোমেনে দেওয়া হয়েছিল, দু’লক্ষের বেশি পরামর্শ এসেছে। প্রতিটি পরামর্শই ভালভাবে দেখা হচ্ছে।”
পোখরিয়াল বলেন, সচিবরা ছাড়াও সাংসদ ও বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে যথোপযুক্ত ও পৃথক ভাবে আলোচনা করা হচ্ছে। শিক্ষাসচিবদের সঙ্গে আলাদা ভাবে আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সমস্ত পরামর্শই খসড়ায় রাখা হচ্ছে। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিসরে আলোচনা করে নতুন শিক্ষানীতি স্থির করা হচ্ছে। ছাত্র, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সরকার, শিক্ষামন্ত্রী,আমলা এবং বিশেষজ্ঞ – সকলের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে।”
অন্য একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ১৯৬৮ ও ১৯৮৬ সালের নীতির মতোই প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যম হবে মাতৃভাষা। পোখরিয়াল বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদানের রীতিই অনুসরণ করা হবে বর্তমান নীতির মতোই। এই নীতি অনেক বেশি সফল।”
রমেশ পোখরিয়াল মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পরে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের (ইসরো) প্রাক্তন অধিকর্তা কে কস্তুরিরঙ্গন তাঁর নেতৃত্বে হওয়া নতুন শিক্ষানীতির খসড়া তুলে দেন রমেশ পোখরিয়ালের হাতে।
আইআইটিগুলিতে সরকার যেমন ভাবে অর্থ দিয়ে যাচ্ছে, সেই একই ভাবে অর্থ দিয়ে যাবে বলে সংসদে আশ্বাস দিয়েছেন পোখরিয়াল। এ ব্যাপারে একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “২০১৮-১৯ সালে তিনটি আইআইটিকে ৪৩ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯-২০ সালে দিল্লি আইআইটিকে ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। আইআইটি মুম্বইকে ৪৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, যা তারা খরচ করতে পারেনি, আইআইটি ব্যাঙ্গালোরকে ৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। টাকার কোনও সমস্যা নেই।”
তিনি জানান, ২০টি নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স (আইওই) ঘোষণা করা হয়েছে, এর মধ্যে ১০টি সরকারি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।