
শেষ আপডেট: 9 May 2023 05:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি (Manipur unrest)। সেনা ও আধা সেনার টহল চলছে। বহু এলাকায় কার্ফু বলবৎ আছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবাও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আক্রান্ত পরিবারগুলিকে আরও কিছুদিন সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ শিবিরে রাখা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
এদিকে, মণিপুর হাইকোর্টের যে রায়কে কেন্দ্র করে চলতি অশান্তির সূত্রপাত, সুপ্রিম কোর্টে তা গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘হাইকোর্টের বিচারপতি কীভাবে এমন রায় দিলেন! তিনি কি জানেন না, কোনও জাতি সম্প্রদায়কে উপজাতি ভুক্ত করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত। বিচারপতি কীভাবে সরকারকে বলতে পারেন কোনও সম্প্রদায়কে সিডিউলড কাস্ট হিসাবে স্বীকৃতি দিতে?’
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের অসন্তোষের মুখে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এই রায়ের ব্যাপারে উপযুক্ত ফোরামে যাবে। আদালত ১৭ মে’র মধ্যে মণিপুরের পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, রায় নিয়ে এখন বিশদ আলোচনার প্রয়োজন নেই। আদালত চিন্তিত কত তাড়াতাড়ি মণিপুরে শান্তি ফেরানো যায়। সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। ত্রাণ শিবিরে মানুষ যেন পর্যাপ্ত খাবার ও ওষুধ পান।
প্রবীণ আইনজীবী কলিন গঞ্জালভেস অশান্ত মণিপুরের হিংসার তথ্য পড়ে শোনাতে শুরু করলে প্রধান বিচারপতি তাঁকে থামিয়ে দিলে বলেন, ‘এখানে রিপোর্ট পড়ার দরকার নেই। এখন সেই পরিস্থিতি নয়। আপনি রিপোর্ট আদালতে জমা দিন। আমরা দেখে নেব।’
মণিপুর হাইকোর্টে মেইতেইদের তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি দাবি করে হওয়া মামলার আইনজীবী ছিলেন আর এক প্রবীণ আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে। প্রধান বিচারপতি সরাসরি হাই কোর্টের বিচারপতি সম্পর্কে মন্তব্য এড়িয়ে ওই আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘আপনি কেন হাই কোর্টকে বলেননি যে ওই আদালতের কোনও ক্ষমতা নেই সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার। এটা রাষ্ট্রপতির বিবেচনার বিষয়।’ প্রধান বিচারপতির এই প্রতিক্রিয়া হাইকোর্টের বিচারপতির জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর বলেই মনে করছে বিচার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত মহল। কারণ, মণিপুরের দাঙ্গায় সরাসরি হাইকোর্টের রায়ের দিকেই আঙুল উঠেছে। যদিও ১৮ এপ্রিল রায় ঘোষণার পর রাজ্য সরকার কেন পরিস্থিতি আঁচ করতে পারল না, সে প্রশ্নও উঠেছে। গোলমাল তীব্র আকার নেয় ৩ মে বিকালে আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের মহা মিছিলকে ঘিরে। তার আগে সমাজমাধ্যমেই দাঙ্গার আবহ তৈরি হয়েছিল মেইতেই ও কুকিদের পরস্পর বিরোধী পোস্টে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানি হয় দুটি মামলাকে জুড়ে নিয়ে। একটি করে দিল্লির মণিপুর ট্রাইবাল ফোরাম। দ্বিতীয়টি করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক গিনগাংলুংগ গাংমেইত। দু’জনেই হাই কোর্টের রায় বাতিলের দাবি নিয়ে শীর্ষ আদালতে হাজির হন।
মোখা ১২০ কিলোমিটার বেগে এগোবে, তাণ্ডব চালাবে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, পূর্বাভাস মৌসম ভবনের