দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুলি করে শাশুড়িকে খুন করল জামাই, তার পরে একই অস্ত্র থেকে গুলি করে শেষ করে দিল নিজেকেও! সোমবার বিকেলে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাগান থানা এলাকা। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানকার এক বড় আবাসনে থাকতেন ৬০ বছরের ললতি ঢনঢনিয়া। ৪২ বছরের অমিত আগরওয়াল তাঁকে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সম্পত্তি নিয়ে বচসার জেরেই এই ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, দু'বছর ধরে স্ত্রী শিল্পী আলাদা থাকেন অমিতের থেকে। সম্পর্ক নেই তাঁদের। তবু সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ অমিত আগরওয়াল হঠাৎ করেই এসে পৌঁছয় ফুলবাগানের রামকৃষ্ণ সমাধি রোডের আবাসনে, তার শ্বশুরবাড়িতে। সেখানেই শ্বশুরমশাই, পেশায় ব্যবসায়ী সুভাষ ঢনঢনিয়ার সঙ্গে সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও বিষয় নিয়ে অমিতের বচসা শুরু হয়।
৭০ বছরের সুভাষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে আশঙ্কা করে বচসা থামানোর চেষ্টা করেন সুভাষের স্ত্রী ললিতা। এর মধ্যেই কথা কাটাকাটি চলতে চলতে হঠাৎই বৃদ্ধা ললিতাকে তাক করে গুলি চালিয়ে দেয় অমিত। পুলিশ জানিয়েছে, একেবারেই কাছ থেকে গুলি করা হয় ললিতাকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান ললিতা।
এই অবস্থায় কী করবেন ভেবে না পেয়ে খুব দ্রুত ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন সুভাষ। নীচের অন্য এক প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটে গিয়ে কোনও রকমে সবটা বলেন তিনি। প্রতিবেশীর ফোন থেকেই খবর দেন পুলিশে। ফুলবাগান থানায় ফোন করে সবটা জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ফোন পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পৌঁছে তারা দেখে, বন্ধ ওই ফ্ল্যাটের ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ললিতা এবং কিছুটা দূরে পড়ে অমিতের দেহও। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান শাশুড়িকে খুন করার ওই পিস্তল দিয়েই নিজে আত্মহত্যা করেছে অমিতও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিতের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে। এই পরিস্থিতিতে এভাবে শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হয়ে কেন এমন কাণ্ড ঘটাল অমিত, তা খতিয়ে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। সুভাষের ছেলেকে খবর দেওযা হয়েছে, তিনি অন্য রাজ্যে চাকরি করেন। খবর পেয়েই কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। হোমিসাইড দফতর ও ফুলবাগান থানা তদন্ত চালাচ্ছে, ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে দেহ দু'টি।