দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিনের বেলায় রাস্তার মাঝে এক ব্যক্তি খুন হলেন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। দু'জন তাঁকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারল। ব্যস্ত রাস্তার মাঝে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটলেও আক্রান্তকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউ। যখন ওই ব্যক্তিকে মারা হচ্ছিল, তখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল অনেক বাস, ট্যাক্সি, প্রাইভেট গাড়ি, ভ্যান। কিন্তু কেউই দাঁড়ায়নি। বরং অনেকে মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তুলেছে। রাস্তায় পিটিয়ে মারার দৃশ্য ভাইরাল হতে হইচই পড়ে গিয়েছে নেট দুনিয়ায়।
পুলিশ জানিয়েছে, যে ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারা হচ্ছিল, তাঁর নাম অজয়। সোমবার সকালে তিনি আক্রান্ত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কয়েকদিন আগেই অজয়ের শত্রুদের বিরুদ্ধে পুলিশে এফআইআর করেন তাঁর ভাই সঞ্জয়। যতদূর জানা গিয়েছে, পুলিশ বলেছিল, তোমরা মিটমাট করে নাও। একটি দোকান করা নিয়ে সঞ্জয়ের সঙ্গে গোবিন্দ নামে এক ব্যক্তির বিরোধ হয়। পিটিয়ে মারার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হল গোবিন্দ। সে এবং তার বন্ধু অমিত সোমবার অজয়কে পিটিয়ে মেরেছিল।
ভিডিও ছবিতে দেখা গিয়েছে, অজয়ের দেহ থেকে রক্ত গড়িয়ে ভিজে যাচ্ছে রাস্তা। দু'জন সেই অবস্থাতেই অজয়কে মেরে চলেছে। পরে পুলিশ দুই অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে। পুলিশ আগেভাগেই ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
এর আগে উত্তরপ্রদেশে লাভ জেহাদের নামে নিরীহ মানুষকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টি থেকে ফিরছিল দুই কিশোর-কিশোরী। আচমকা তাদের ওপরে হামলা করে একদল লোক। দু'জনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিশোরটি ছিল মুসলিম। কিশোরীটি ছিল হিন্দু। কিশোরটির বিরুদ্ধে লাভ জেহাদের অভিযোগ তোলা হয়। ১৫ ডিসেম্বর পুলিশ কিশোরটিকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে লাভ জেহাদ বিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
পুলিশের দাবি, কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেছিলেন, মুসলিম ছেলেটি পরিচয় গোপন করতে তাঁর মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা করত। সে পালিয়ে বিয়ে করার জন্য কিশোরীটিকে চাপ দিচ্ছিল। ওইভাবে ধর্মান্তর করানোই ছিল তার উদ্দেশ্য। পরে একদল সাংবাদিক মেয়েটির গ্রামে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। মেয়েটি লাভ জেহাদের অভিযোগ অস্বীকার করে। সে বলে, "রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ একদল লোক আমাদের ওপরে চড়াও হয়। গ্রামবাসীরা আমাদের মারধর করে। তাদের ধারণা ছিল, আমরা চুরি করতে এসেছি। তারা একটা ছেলেকেও ধরেছিল। আমি তাকে চিনি না। সে আমাকে অন্য ধর্ম গ্রহণ করার কথা বলেনি।"
মেয়েটির মা-ও লাভ জেহাদের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমার মেয়ে এক বন্ধুর বার্থ ডে পার্টি থেকে ফিরছিল। ছেলেটি বলেছিল, তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যাবে। পথে গ্রামবাসীরা তার ওপরে চড়াও হয়। সে বলেছিল, বন্ধুর জন্মদিনের পার্টি থেকে ফিরছে। কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি।