
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 16 January 2025 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা তিনি বরদাস্ত করবেন না। মেদিনীপুরে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল সুপার-সহ ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করে এদিন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সরকারি চিকিৎসকদের ৮ ঘন্টা ডিউটির কথা মনে করিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমি চিকিৎসকদের প্রতিও সহানুূভূতিশীল, কিন্তু যেখানে অন্যায় হয়, সেখানে আমার কিছু যায় আসে না। মানুষের দিকটাও দেখা আমার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।"
এরপরই মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক অসাধু চিকিৎসকের কীর্তি ফাঁস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মেদিনীপুর মেডিক্যালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসতেই ১৩ সদস্যের মেডিকেল টিন গঠন করে রাজ্য। পরে সিআইডিকেও আলাদা করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য সচিবকে দিয়ে ওই দুটি রিপোর্ট পড়ে শোনাতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যসূচিব পরিষ্কারভাবে জানান, মেদিনীপুর মেডিক্যালে ওইদিন ওটিতে কোনও সিনিয়র চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। অপারেশন করানো হয়েছিল জুনিয়র ডাক্তারদের দিয়ে।
ওই প্রসঙ্গেই বলতে গিয়ে পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এরকম ডাক্তারও রয়েছেন, তিনি মেদিনীপুরে বসে চল্লিশ কিলোমিটার দূরে বালিচকে তিন তিনটি অপারেশন করেছেন!" খানিক থেমে নিজেই রহস্যের উন্মোচন করে মমতা বলেন, "আমাদের তদন্তকারীরা তদন্ত করে জানতে পেরেছেন ওই দিন মেদিনীপুর মেডিক্যালের রেজিস্টারে সই করে একজন চিকিৎসক বালিচকের নার্সিংহোমে তিনটে অপারেশন করেছেন।"
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নেগলিজেন্স ইজ অলসো আ ক্রাইম! মানুষের প্রাণের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। তাই কারও গাফিলতি থাকলে তাকে বরদাস্ত করা হবে না।"
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মেদিনীপুরের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গাফিলতির প্রসঙ্গে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে যেভাবে দুধ কা দুধ পানি কা পানি সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট, গাফিলতির প্রশ্নে কাউকেই আর রেয়াত করবেননা তিনি।