
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 14 May 2024 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইদানীং প্রায় প্রতিটি সভা থেকে বিজেপির ছোট বড় মাঝারি নেতারা তৃণমূল এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'চোর' বলে আক্রমণ করছেন। সবচেয়ে বেশি বলছেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি যেভাবে চোর চোর করছেন তাঁর মতো আর কেউ হয়তো ততটাও করছেন না। বিজেপির সূত্রের দাবি, গত বছর ধর্মতলায় সভার পর অমিত শাহ নাকি শুভেন্দুকে কানে কানে বলে গিয়েছেন, সরাসরি মমতার বিরুদ্ধে বলো। তার পর থেকে এই অবস্থান নিয়েছেন শুভেন্দু।
১৯৮৪ সালে যাদবপুর লোকসভা আসনে সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে তরুণ সাংসদ হিসেবে লোকসভায় পা রেখেছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই থেকে মোট সাতবার সাংসদ হিসেবে জিতেছেন মমতা। চার বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন। এছাড়াও টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। সমসাময়িক রাজনীতিতে তাঁর সমতুল রেকর্ড বিরল।
মঙ্গলবার হুগলির শ্রীরামপুরের সভা থেকে নিজের সংসদীয় জীবনের ইতিবৃত্ত তুলে ধরে তৃণমূল নেত্রী বলেন, "সাত বারের এমপি হিসেবে মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা পেনশন হওয়ার কথা। তিনবারের চিফ মিনিস্টার হিসেবেও দেড় লাখ টাকা পেনশন পেতে পারি। দেড় দেড় কত হয়, তিন লাখ। বছরে ৩৬ লাখ, ১৩ বছরে হিসেব করুন। কত কোটি হচ্ছে?"
১৩ বছরে হওয়ার কথা ৪ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা। সন্দেহ নেই ওই টাকা ব্যাঙ্কে রাখলে বা পরিকল্পিত ভাবে বিনিয়োগ করলে, তা এতদিনে বেড়ে দ্বিগুণ হতে পারত।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "ওই টাকা আমি নিই না। কারণ, আমার প্রয়োজন পড়ে না।"
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আমার নিজেরই কয়েক কোটি টাকা হোয়াইট মানি, আমি সেগুলো নিই না। আমাকে কি না বলছে চোর! এখনও পর্যন্ত ১৪০টা বই বেরিয়েছে। তার থেকে আমি রয়্যালটি পাই। এমনকী ছবি এঁকেও বিক্রি করে নিজের ফান্ডে এক পয়সা নিইনি। তা সত্ত্বেও আমার নামে সিবিআই কেস করেছিল। বদমায়েশের গাছগুলো।"
আক্রমণের সুরে বলেন, "যেদিন ওদের গাছে বেঁধে রেখে ভাল করে আদর করতে পারব, সেদিন বোঝাব মিথ্যে কথা বলার কী দাম!"
এই প্রসঙ্গে টেনে এনেছেন সন্দেশখালির কথাও। মমতা বলেন, "বিজেপির চিন্তাধারা পাশবিক না হলে সন্দেশখালি নিয়ে গল্প তৈরি করতে পারে? বাংলার মা বোনেদের অসম্মান করতে পারে? ওদেরই নেতা এখন স্বীকার করছে, ভোটের জন্য মা, বোনেদের টাকা দিয়ে জোর করে ওরা নির্যাতনের গল্প ফেঁদেছিল!"